গাজার শিশুদের চিকিৎসার জন্য ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। এই কাজে অংশগ্রহণকারী, দাতা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন শেফিল্ড ইউনাইটেডের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ ফুটবলার।
পোস্টে হামজা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য ১ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা) বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছি।’ নুজুম স্পোর্টসের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত একটি দাতব্য অনুষ্ঠান থেকে এই তহবিল সংগ্রহ করেন হামজা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হামজা জানান, গাজার শিশুদের চিকিৎসা-সহায়তার সম্পূর্ণ অর্থ ব্যয় করা হবে। নজুম স্পোর্টস ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্যভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা। পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে মুসলিম অ্যাথলেটদের সহায়তা, ক্ষমতায়ন ও তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে এ প্রতিষ্ঠান।
গত রোববার টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে ‘নুজুম স্পোর্টসে’র আয়োজনে এ দাতব্য অনুষ্ঠান হয়। এতে হামজাকে নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মুসলিম অ্যাথলেটদের স্বাক্ষরিত জার্সি, পদক এবং বিভিন্ন স্মারক নিয়ে একটি দাতব্য নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলামে হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপজয়ী জার্সি ৭ হাজার পাউন্ড এবং কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদক ৩ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়। টিকিট বিক্রি ও নিলামের পুরো অর্থ ‘চিলড্রেন নট নাম্বারস’ সংস্থাকে দেওয়া হয়।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে হামজা আরও বলেন, ‘সংগৃহীত এই তহবিল চিলড্রেন নট নাম্বারসের চমৎকার কাজে ব্যয় করা হবে, যারা গাজার শিশুদের জীবন রক্ষাকারী জরুরি সহায়তা দিচ্ছে। এই শিশুদের অনেকের জন্যই চিকিৎসার্থে বিদেশ বা নিরাপদ স্থানে যাওয়া বেঁচে থাকার একমাত্র আশা। সংগৃহীত সব অর্থই এমন শিশুদের চিকিৎসার্থে স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হবে, যাদের এটি অত্যন্ত প্রয়োজন।’
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘স্বল্প সময়ের মধ্যে এই আয়োজনের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়েছে, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ ও বিনীতবোধ করলেও জানি এত বিশাল দুর্ভোগের বিপরীতে এটি অত্যন্ত সামান্য একটি অবদান মাত্র। এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে, তবে প্রতিটি চেষ্টাই—তা যত ছোটই হোক না কেন—পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে।’
গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ তাদের দেওয়া এ তথ্যকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে এ যুদ্ধের সূচনা হয়।


