২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর সারাদেশে সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়।
এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এবার উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে। একইভাবে ছাত্রের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৯ হাজার ৯ জন।
এদিকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৬৯৮ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।
সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফলের এসব তথ্য জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম জেলার পাশাপাশি কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির শিক্ষার্থীরাও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ০৩ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরে এবার পাসের হার ৭৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ। মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বিভাগের বোর্ডের অধীন অন্য চার জেলাতেও এবার পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কক্সবাজারে এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রাঙামাটিতে এবার পাসের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ; গত বছর ছিল ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। খাগড়াছড়িতে এবার পাসের হার ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বান্দরবানে এবার পাস করেছে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী, যেখানে গত বছর পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। এবার ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৩৩টি। অন্যদিকে এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর শূন্য পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর সোমবার ১০ আগস্ট ফল প্রকাশ করা হলো।


