কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ অভিযানে মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত মো. কবির ওরফে ডা. কবির এবং তার সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকালে টেকনাফের চব্বিশ নম্বর লেদা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, এ বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি নৌযান আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে ডুবে যায়। নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে ভাসতে থাকা কয়েকজনকে কোস্টগার্ড উদ্ধার করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই নৌযানটি পাঠানোর সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এছাড়া টেকনাফের ৬টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একযোগে চালানো যৌথ অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে দণ্ড প্রদান এবং একটি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদারের নেতৃত্বে রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান চালিয়ে
তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে পরিচালিত এ অভিযানে ১৬ এপিবিএন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, এসআরবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ব্যাটালিয়ন আনসারের মোট ১০৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
মোবাইল কোর্টে ১০ জনের দণ্ড
অভিযান চলাকালে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর, ক্যাম্পে অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ছয় মাস করে, একজনকে পাঁচ মাস এবং দুজনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজনকে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানে রিকল মূলে আরও একটি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার, দণ্ড ও ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তিসহ আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে মোট ১৩ জনকে।
১৬ এপিবিএন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


