কল্পনা চাকমার নিখোঁজের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ইন্ডিজেনাস ভয়েস–সিএইচটি’ নামের একটি ফেসবুক প্ল্যাটফর্মের বরাতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা সঠিক নয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, তাদের নামে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে সংগঠনটির কোনো সম্পর্ক নেই এবং এ ধরনের কোনো বিশেষ প্রতিবেদন তারা প্রকাশ করেনি। আসকের সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কল্পনা চাকমা ইস্যুতে সম্প্রতি কোনো আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট তারা প্রকাশ করেনি।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কল্পনা চাকমা ইস্যুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে অবশ্যই তা আনুষ্ঠানিকভাবে মূলধারার গণমাধ্যমকে জানানো হতো।

এদিকে আসকের সাইটেও এমন কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফলে ‘ইন্ডিজেনাস ভয়েস–সিএইচটি’ এ সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন বা তথ্য অনলাইনে ছড়িয়েছে, তা ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে ‘ইন্ডিজেনাস ভয়েস–সিএইচটি’র ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি

উল্লেখ্য, কল্পনা চাকমা ১৯৯৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে নিখোঁজের দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি, যা ঘটনাটিকে এখনো অমীমাংসিত মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে ধরে রেখেছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন কল্পনা চাকমা। দীর্ঘ সময় মামলা চলার পর ২০২৪ সালে পুলিশ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, কাউকে দোষী হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।