টানা সাড়ে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আবারও শুরু হয়েছে মাছ আহরণ। সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে হ্রদে জাল ফেলতে শুরু করেন জেলেরা। মঙ্গলবার ভোর থেকেই মাছভর্তি নৌযান নিয়ে রাঙামাটি শহরের ফিশারি মৎস্য অবতরণ ঘাটে ফিরতে শুরু করেন তারা। এতে ঘাট ও আড়তগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
ফিশারি মৎস্য অবতরণ ঘাটের লংগদু, বরকল, সুবলং, বন্দুকভাঙাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছভর্তি নৌযান ঘাটে ভিড়ছে। নৌযান থেকে মাছ খালাস, ওজন করা ও ট্রাকে তোলাসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলে, শ্রমিক ও আড়তদারেরা।
দীর্ঘ সময় মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় হ্রদে কাচকি, চাপিলাসহ বিভিন্ন দেশি ছোট মাছের পাশাপাশি কাতলা, কালবাউশ ও আইড়ের মতো বড় মাছও ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় অবতরণ ঘাটে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সকাল থেকেই মাছভর্তি নৌযান ঘাটে আসতে শুরু করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার মাছের আকার তেমন বাড়েনি।
তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রথম দিনে ১২৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণ হয়েছিল। আজ সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত ১৬ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ করেছে। গত বছর ১০ হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এর চেয়ে বেশি মাছ আহরণ হয়েছিল। এবারও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।’
এর আগে, সোমবার রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক আদেশে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণের ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলেও জেলেদের বেশ কিছু শর্ত মেনে মাছ ধরতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বিএফডিসির রাঙামাটি কেন্দ্র থেকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স নেওয়া, ৯ ইঞ্চির কম আকারের পোনা মাছ না ধরা, মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ শিকার না করা এবং বিএফডিসি নির্ধারিত অবতরণ ঘাট ছাড়া অন্য কোথাও মাছ না তোলা।
নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদনির্ভর জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। এখন অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত মাছ আহরণের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।


