বান্দরবানে শ্রমবাজারে কম মজুরিতে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের উপস্থিতি স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে চাপ সৃষ্টি করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্মাণ, কৃষি, ইটভাটা, পাথর ও মাটি উত্তোলন, বাগান পরিচর্যা, পরিবহনসহ বিভিন্ন শ্রমনির্ভর কাজে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কম মজুরিতে কাজ করতে রাজি হওয়ায় রোহিঙ্গা শ্রমিকরা অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় দিনমজুরদের কাজের সুযোগ সংকুচিত করছে। বর্তমানে যেখানে স্থানীয় শ্রমিকরা দৈনিক ৭০০–৮০০ টাকা মজুরি পান, সেখানে অনেক রোহিঙ্গা শ্রমিক ৪০০–৫০০ টাকায় একই ধরনের কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির থেকে কিছু রোহিঙ্গা বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে চলে আসছেন। সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা ছাড়াও এখন তারা জেলার অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সুয়ালক এলাকায় কর্মরত এক রোহিঙ্গা শ্রমিক জানান, তারা মূলত ভারী কাজে যুক্ত থাকেন এবং তুলনামূলক কম মজুরিতেই কাজ করতে রাজি হন।
বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণকাজ, কৃষি, বাগান, কাঠ বহন ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর পেশায় এমন শ্রমিকদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী শ্রমিকদের বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের আটক করছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সাংবাদিক কাছে তথ্য থাকলেও তাদের জানাতেও বলেন।’
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি নীলিমা আক্তার নীলা বলেন, ‘দেশে এমনিতেই কর্মসংস্থান কম। যেভাবে রোহিঙ্গারা কর্মসংস্থান দখল করছে, তাতে বান্দরবানের মানুষ কর্ম হারাচ্ছে। এই বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’


