ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে পরিবহন ব্যয় ও অতিরিক্ত শ্রমের মূল্য যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (২০ মে) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) উদ্যোগে আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের পল্লী অঞ্চলের কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন’ বিষয়ক প্রকল্প এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকরা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাজারে পণ্য পৌঁছে দেন। তাই উৎপাদন খরচের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও অতিরিক্ত শ্রমের যথাযথ মূল্য বিবেচনায় নিয়ে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ফল ও সবজি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে এ ধরনের প্রকল্প সময়োপযোগী উদ্যোগ। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রাথমিকভাবে এটিকে পাইলট গবেষণা হিসেবে গ্রহণ করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সমবায়ভিত্তিক কৃষিপণ্য সাপ্লাই চেইন মডেল গড়ে তোলার মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কৃষিপণ্যের পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমানো, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ব্লকচেইনভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৯৫০ জন কৃষককে জৈব চাষাবাদ ও রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া ৫০ জন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাকে সমবায়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় আরও জানানো হয়, কৃষকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় এনে সঞ্চয়ভিত্তিক কার্যক্রম ও জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভবিষ্যতে পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তম এনডিসি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব কংকন চাকমা, অতুল সরকার ও মমিনুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ফদাং তাং রান্দাল, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, ওমেগা লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ জিয়া করিম, বার্ডের যুগ্ম পরিচালক আযমা মাহমুদাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।