যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতায় বিপর্যস্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করছেন ৫০ হাজারেরও বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী। তাদের সাহস, আত্মত্যাগ ও মানবিক সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ শুক্রবার (২৯ মে) পালিত হয়েছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত রয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষী, যাদের মধ্যে চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি। ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী। শুধু ২০২৫ সালেই শহীদ হয়েছেন ৫৯ জন।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শান্তিরক্ষীদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

গুতেরেস বলেন, নিজ দেশ ও পরিবার থেকে বহু দূরে থেকে শান্তিরক্ষীরা সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি, নির্বাচন আয়োজন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি অতীত ও বর্তমানের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর সম্মান জানান। মহাসচিব বলেন, ‘শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারো মৃত্যুই কাম্য নয়।’

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মহাসচিব আরও বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি পরীক্ষিত এবং ব্যয়সাশ্রয়ী উপায়। তবে এ কার্যক্রম সফল রাখতে টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য। তাঁর ভাষায়, ‘শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা শান্তি প্রতিষ্ঠাকে সম্ভব করে তুলছেন, তাদের প্রতি আমাদের সবসময় সমর্থন জানানো উচিত।’

এদিকে, বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, শান্তিরক্ষীদের কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতায় আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের আত্মনিবেদিত সেবা শান্তিতে বিনিয়োগের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীরা নিয়মিতভাবে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করেন। তাই তাদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে গৃহীত পদক্ষেপ জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন আন্তোনিও গুতেরেস। একই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও দেওয়া হবে।

এছাড়া দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি-জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া।