সংবাদ জানার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন এখন বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও ছাপা পত্রিকার পাঠকসংখ্যা কমছে, তবু অনলাইন সংস্করণের মাধ্যমে সংবাদ গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণে খবর পড়েন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের জন্য এই জরিপটি পরিচালনা করেছে। আজ বৃহস্পতিবার কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
জরিপ অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ মানুষ এখন আর ছাপা পত্রিকা পড়েন না। এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা খবরের কাগজ পড়ার প্রয়োজন অনুভব করেন না। টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও সংবাদ দেখার হার কমছে, তবে এখনও ৬৫ শতাংশ মানুষ টেলিভিশন দেখে থাকেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, ৮৮ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে সংযুক্ত থাকেন, যেখানে কম্পিউটারের ব্যবহার মাত্র ৭ শতাংশ। ৫৯ শতাংশ মানুষ মোবাইলে অনলাইন পত্রিকা পড়েন। ২.৫ শতাংশ কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ট্যাবে অনলাইন সংবাদ পড়ে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ৩১ শতাংশ মানুষ ফেসবুককে সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য মনে করেন। ইউটিউবের ক্ষেত্রে এই হার ১৬.৫ শতাংশ।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা এখনও রয়েছে। তবে, রাজনৈতিক, সরকারি ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মনে করেন উত্তরদাতারা।
সংকটকালে মানুষ এখনও টেলিভিশনের ওপর বেশি নির্ভর করে। তবে রেডিওর জনপ্রিয়তা অনেকটাই কমে গেছে। জরিপে দেখা গেছে, ৯৪ শতাংশ মানুষ রেডিও শোনেন না। ৫৪ শতাংশ মনে করেন রেডিও শোনার প্রয়োজন নেই। তবে ৩৫ শতাংশ রেডিও সেটের সহজলভ্যতা না থাকাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীন, পক্ষপাতহীন ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত গণমাধ্যমের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে, বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকা উচিত।
এই জরিপটি ২০২৫ সালের ১ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় পরিচালিত হয়। এতে ৪৫ হাজার পরিবারের (হাউসহোল্ড) ১০ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের মতামত সংগ্রহ করা হয়। জরিপে গণমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস, সংবাদমাধ্যমের ওপর মানুষের আস্থা এবং স্বাধীনতার মাত্রা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
-পার্বত্য সময়


