শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার মিয়ানমারের দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জরুরি ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী এবং উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় এক হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুদক্ষ উদ্ধারকারী দল রোববার (৩০ মার্চ) একটি বিশেষ বিমানে করে মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মিয়ানমারে ৭.৭ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার কম্পন প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অনুভূত হয়। বিবিসি জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৬০০ ছাড়িয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এটিকে গত শতাব্দীর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে মিয়ানমারের বিমানবন্দর, সেতু ও মহাসড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশটির অর্থনীতিকে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, মিয়ানমারের এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটি আরও পূর্বাভাস দিয়েছে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আর্থিক ক্ষতি দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনকেও (জিডিপি) অতিক্রম করতে পারে।
আন্তর্জাতিকভাবেও মিয়ানমারের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে বিভিন্ন দেশ। শনিবার চীনের একটি উদ্ধারকারী দল মিয়ানমারে পৌঁছেছে। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা এর আগেই সহায়তা পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও মিয়ানমারের জন্য সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে।
এদিকে, মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও এই ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে। দেশটির রাজধানী ব্যাংককে নির্মাণাধীন একটি আকাশচুম্বী ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন।

-পার্বত্য সময়