চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম চন্দন দাস। পুলিশ বলছে, সে কিরিচ হাতে সাইফুল ইসলামকে কুপিয়েছিলেন।
চন্দন দাস চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি সেবক কলোনির বাসিন্দা। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ভৈরব রেলস্টেশনের পাশে মেথরপট্টিতে শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছিলো।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, ‘চন্দন রেলস্টেশনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। রাতে তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই খবর পেয়ে তাকে আমরা গ্রেপ্তার করি। তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।'
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সংগ্রহ করা ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবী সাইফুলকে কোপান ওম দাশ, চন্দন ও রনব, আর তাকে পেটাতে থাকেন অন্যরা। সেখানে আরও ২৫-৩০ জন ছিলেন। তাদের বেশির ভাগই পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
সেই ভিডিও ফুটেজে কমলা রঙের টি-শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত চন্দনকে (৩৫) ছুরি হাতে সাইফুলকে কোপ দিতে দেখা যায়। চন্দনের মাথায় ছিল হেলমেট।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর হওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়। ৬ মামলায় গ্রেপ্তার হন ৪০ জন। তাঁদের মধ্যে হত্যায় জড়িত অভিযোগে ১০ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। গত সোমবার পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধাদানের মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির জন্য ওকালতনামা দিলে আইনজীবীদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর সরকারি কৌঁসুলি নেজাম উদ্দিন।
-পার্বত্য সময়


