জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবও করছে সংস্থাটি। তবে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে আপাতত কোনো প্রস্তাব দিচ্ছে না ইসি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে সংশোধনী আনার জন্য এসব প্রস্তাব তৈরি করেছে কমিশনের আইন-বিধি সংস্কার কমিটি। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে সেগুলো সুপারিশ আকারে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা আইনে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা’র সংজ্ঞায় প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ অন্তর্ভুক্ত থাকলেও উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইনে এমন বিধান নেই। ইসি সব স্থানীয় সরকার আইনে একই ধরনের বিধান যুক্ত করতে চায়, যাতে প্রয়োজন হলে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া যায়।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সব স্থানীয় সরকার আইনে সশস্ত্র বাহিনীকে সংজ্ঞাভুক্ত করা হলে প্রয়োজনে তাদের মোতায়েন করা সহজ হবে। তবে আইনে সুযোগ থাকলেই যে সব সময় সেনা মোতায়েন করা হবে, এমন নয়; পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

ইসি আরও প্রস্তাব করছে, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য পদ ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্য সব পদে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার। পাশাপাশি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক এবং সার্বক্ষণিক কর্মচারীদেরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য করার সুপারিশ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি উঠলেও এ বিষয়ে কোনো সংশোধনী আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সংঘর্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত রাখলে কমিশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম ইসির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়তে পারে।