পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর হেলাল বলেন, শুধু তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে পার্বত্য অঞ্চলের সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, বিজিবি বা সেনাবাহিনী পাঠিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা টেকসই সমাধান নয়। মানুষের জন্য আত্মকর্মসংস্থান ও উন্নত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো স্থায়ী পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়। সরকার আইনি, সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক-সব দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বা ‘হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ নিয়ে এগোচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ই-লার্নিং ও মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় সমতা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, স্বাবলম্বী ও সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত কোনো মানুষ সাধারণত সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াতে চায় না। তাই মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গঠনমূলক সমালোচনার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন, যা গণতন্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য। জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক।
তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী সব কর্মকাণ্ড পরিহার করে পার্বত্য অঞ্চলকে মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক পিএসসি, রাঙামাটি জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব পিপিএম এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনসহ জেলা বিএনপি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


