কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশেই উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় সংরক্ষিত বনভূমির সরকারি জায়গা দখল করে প্রকাশ্যে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
কুতুপালং বাজার থেকে মাত্র ৪০০ মিটার দূরে আমগাছতলা নামক স্থানে ২ ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাঁটাতারের লাগোয়া এই জায়গায় ইতোমধ্যে দুটি আধাপাকা গুদামঘর তৈরি করা হয়েছে, পাশাপাশি আরেকটি স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগেও আনুমানিক ৫০ শতকের এই জায়গাটি ছিল উন্মুক্ত মাঠ। এমনকি গত ২০ জানুয়ারি এলাকাবাসীর উদ্যোগে সেখানে একটি তাফসিরুল কোরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ শরীফের ছেলে মোহাম্মদ শাহ আলম জায়গাটি দখলে নেন।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণাধীন স্থাপনায় ৭-৮ জন রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করছেন। তবে, স্থাপনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু জানেন না সেখানে কর্মরত ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়াস (২৬)।
স্থাপনাটির বিপরীত পাশে থাকা পানের দোকানি মোহাম্মদ সিরাজ জানান, তিনি মোহাম্মদ শরীফের মেয়ের জামাই এবং তার স্ত্রীর ভাই শাহ আলমই জায়গাটিতে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তবে, শাহ আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে উখিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম শাহীন বলেন, “সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ গুরুতর অপরাধ। আমরা বিষয়টি পরিদর্শন করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে সম্প্রতি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, “সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। কোনো দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
সরকারি জমিতে এই রহস্যজনক স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
-পার্বত্য সময়


