বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সীমান্ত চিহ্নিতকরণ ও জরিপ কাজ ত্বরান্বিত করতে যৌথ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল মিজোরাম প্রদেশে সীমান্ত জরিপ পরিদর্শনের জন্য রওনা হয়। এই জরিপের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের আশা করা হচ্ছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ সার্ভে বিভাগের সার্ভেয়ার জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুর-ই আলম মোহাম্মদ যোবায়ের সারওয়ার-এর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের দল রাঙ্গামাটির ছোট হরিণায় পৌঁছে। দলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সার্ভে অব বাংলাদেশের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। একইভাবে ভারতের পক্ষ থেকে শ্রী উদয় শংকর প্রসাদের নেতৃত্বে মিজোরাম সরকার ও বিএসএফ এর প্রতিনিধিসহ ৭ জন অংশ নিচ্ছেন।
দলটি ৪ ফেব্রুয়ারি থেগামুখ সীমান্ত চৌকি দিয়ে মিজোরামে প্রবেশ করে। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সীমান্তের চিহ্নিত অংশগুলোর যৌথ পরিদর্শন ও তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই জরিপে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক জিও-স্পেশিয়াল প্রযুক্তি, যা পূর্ববর্তী মানচিত্র ও ঐতিহাসিক তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কয়েক দশক ধরে কিছু এলাকা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে মিজোরামের সঙ্গে সংযুক্ত রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার কিছু অঞ্চলে সীমানা চিহ্নিতকরণ অস্পষ্ট। ২০২১ সালে দুই দেশ ১৬২ কিলোমিটার সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করলেও পার্বত্য অঞ্চলের কিছু অংশ তখনো আলোচনার বাইরে ছিল। এই জরিপের মাধ্যমে ওই অমীমাংসিত অংশগুলোর সীমানা স্পষ্ট করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৫ সালের Land Boundary Agreement (LBA)-এর মাধ্যমে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় করা হলেও পার্বত্য অঞ্চলের কিছু অংশ এখনো জটিলতা রয়ে গেছে। বর্তমান জরিপ সেই জটিলতা নিরসনের চূড়ান্ত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই যৌথ উদ্যোগের সফলতা দুই দেশের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সীমান্ত জরিপ শেষ হলে আগামী মাসেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে চূড়ান্ত সীমানা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

-পার্বত্য সময়