পার্বত্য চট্টগ্রামের সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে পার্বত্য মেলা। ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই মেলা, যেখানে পাহাড়ি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও খাবারের সমৃদ্ধ সম্ভার উপস্থাপন করা হচ্ছে। এবারের মেলায় ৮০টিরও বেশি স্টলে পাহাড়ি পণ্য, হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে ভিড় করছেন রাজধানীবাসী। মেলাটি পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা তারুণ্যের উৎসবে মেতে উঠেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণরা শুধু জুমচাষ বা উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা এখন শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং সামাজিক উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে তরুণদের উদ্যম ও দেশ গড়ার প্রত্যয় আরও শক্তিশালী হয়েছে। পার্বত্য মেলা তারুণ্যের এই জাগরণকে প্রতিফলিত করছে। মেলায় অংশ নেওয়া তরুণরা পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে কাজ করছেন।
মেলার প্রধান আকর্ষণ পাহাড়ি খাবারের সমৃদ্ধ সম্ভার। পার্বত্য অঞ্চলের প্রকৃতি, আবহাওয়া ও স্থানীয় উপাদানের মিশ্রণে তৈরি খাবারগুলো স্বাদে ও পুষ্টিতে অনন্য। মেলায় পরিবেশিত হচ্ছে পাহাড়ি শাকসবজি, মাছ, মাংস, ফলমূল এবং প্রাকৃতিক মসলায় তৈরি নানা ধরনের খাবার। এর মধ্যে বাঁশ দিয়ে তৈরি বাম্বু চিকেন, সিদল শুঁটকি, পাজন, হেবাং, নাপ্পি এবং শামুকের ঝোল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও তুলসীমালা চালের চিকেন বিরিয়ানি, সান্নী পিঠা, কলা পিঠা, কালো বিন্নি চালের পিঠা এবং বিভিন্ন ধরনের ভর্তা মেলায় আগতদের রসনাবিলাসে মাতিয়ে তুলছে।
পাহাড়ি খাবারের বৈচিত্র্য ছাড়াও মেলায় সাজানো হয়েছে পাহাড়ি সংস্কৃতির নানা নিদর্শন। হস্তশিল্প, বুননশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং টেক্সটাইল পণ্যগুলো দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক এবং নকশিকাঁথা মেলার স্টলগুলোকে সজ্জিত করেছে। এছাড়াও মেলায় চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা পাহাড়ি সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলছে।
পার্বত্য মেলা শুধু একটি খাদ্য বা শিল্পমেলা নয়, এটি পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতিরও প্রতীক। মেলায় আগতরা পাহাড়ি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হচ্ছেন, যা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহাবস্থানকে শক্তিশালী করছে। মেলার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা দেশবাসীর কাছে আরও ব্যাপকভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
যাদের খাদ্যে অ্যালার্জি, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি খাবারের প্রাকৃতিক উপাদান ও মসলা স্বাস্থ্যসম্মত হলেও সচেতনতার সঙ্গে খাদ্য নির্বাচন করা জরুরি।
পার্বত্য মেলা তারুণ্যের উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা পাহাড়ি জনপদের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে দেশের সামনে তুলে ধরছে। মেলাটি শুধু রসনাবিলাসেরই নয়, এটি সম্প্রীতিরও মেলা, যা পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে বন্ধনকে আরও দৃঢ় করছে।
-পার্বত্য সময়


