জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফর ‘ইতিহাসের অংশ’। আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ভাষণ দেবেন।

সফরকে সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র জানান, যাতায়াতের দুই দিন বাদে নিউইয়র্কে মাত্র চার কর্মদিবস অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে তিনি কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

সফরসঙ্গী বহর নিয়েও তথ্য দেন মাহদী আমিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৫ জন রয়েছেন। এর বাইরে প্রয়োজনীয় গণমাধ্যমকর্মী, নিরাপত্তা সদস্য ও ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে রয়েছেন।

মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রণে ‘ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসেপশনে’ অংশ নেবেন তিনি। পরে সকাল ৯টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন, যেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের আলাদা কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া। ফলে আলাদা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য তেমন সুযোগ থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।