দেশে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস সংকট আরও তীব্র হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে নতুন একটি এলএনজি জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে গ্যাস নেওয়া শুরু হওয়ায় সেখানে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ চালু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটল এশিয়ার একটি এলএনজি জাহাজ সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়। জাহাজ থেকে এলএনজি স্থানান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ দিতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সে হিসাবে রাতের মধ্যে সরবরাহ বাড়ানোর কথা। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এরই মধ্যে টার্মিনালে মজুত থাকা এলএনজি থেকে সামিট প্রায় ৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। নতুন জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া শুরু হলে ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়ানো হবে।
অন্যদিকে, এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। রাত ৮টা পর্যন্ত সেখান থেকে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর আগে গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত একটি বয়লারের পাশাপাশি অক্ষত বয়লারটি ব্যবহার করে ৬ আগস্ট থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে, প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। একটি বয়লার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেটি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হতে পারে। তবে এ কাজের সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এদিকে এলএনজি সরবরাহে সাম্প্রতিক জটিলতার পেছনে জাহাজের সামঞ্জস্যের বিষয়টিও উঠে এসেছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের মতে, সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের একটি এলএনজি জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ছিল না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ওই জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং এর পরিবর্তে আরেকটি জাহাজ পাঠানোর কথা জানিয়েছে আরামকো।
বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।
শুক্রবার বিকেল থেকে এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় ১৯৩ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। সামিটের সরবরাহ ৫০ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলে এলএনজি থেকে মোট সরবরাহ প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট এবং দেশের মোট সরবরাহ প্রায় ২৪৩ কোটি ঘনফুটে উঠতে পারে।
তবে এতে সংকট কিছুটা কমলেও গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে না। এক্সিলারেটের টার্মিনাল দ্রুত চালু করা না গেলে সরবরাহে আরও ঘাটতি থাকবে। এর প্রভাব পড়ছে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনে। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা যাচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গ্যাস সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান এখনো নেই। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতি সামলানো গেলেও গরম বাড়লে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


