কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা রোহিঙ্গাদের নতুন বসতি উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া পাহাড়ি এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। ১৬-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আলী জানান, টেকনাফের বিশাল পাহাড়ি অঞ্চলে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। পাহাড় কেটে তৈরি করা তাদের বসতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে এসব বসতি উচ্ছেদ করছে। তিনি বলেন, "রোহিঙ্গারা মানবিক কারণে এখানে এসেছে। তারা আশ্রয়হীন। তাদের জন্য বিকল্প জায়গায় বসবাসের ব্যবস্থা করে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।"
ক্যাম্প ইনচার্জ ও সিনিয়র সহকারী সচিব খানজাদা শাহরিয়ার বিন মান্নান বলেন, "পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রোহিঙ্গারা ঘর তৈরি করে বসবাস করছে। বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকি বিবেচনা করে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের অন্য ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হবে। তাদের বসবাসের উপযোগী জায়গা দ্রুত তৈরি করা হবে। এই অভিযান এক দিনে শেষ হবে না, তবে ঝুঁকিপূর্ণ সব বসতি উচ্ছেদ করা হবে।"
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড় এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই দুই উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার একর পাহাড় কেটে রোহিঙ্গারা বসতি স্থাপন করেছে। সরকার রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলেও টেকনাফে নতুন করে পাহাড় কেটে রোহিঙ্গা ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছে, যা পরিবেশগত হুমকি তৈরি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রোহিঙ্গাদের বসতি উচ্ছেদ করে পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয় রোধ করতে চাইছে। তবে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর ও পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
-পার্বত্য সময়


