"জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র যুক্তিসংগত নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিল করা উচিত।"- 'বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা উত্তরণে রাজনৈতিক ভাবনা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এসময় তারা আদিবাসী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সাংবিধানিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশি প্রফেশনালসের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, "বাংলাদেশকে নিয়ে যতই ষড়যন্ত্র হোক, এক ইঞ্চি মাটিও কাউকে দেওয়া হবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীসহ সকলের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে হবে। পাহাড়ি ও বাঙালি সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।"
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাতিল করতে হবে। এটি একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে খ্রিস্টান রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চলছে। আদিবাসী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার সাংবিধানিক সমাধান প্রয়োজন।"
এলডিপি’র যুগ্ম মহাসচিব ড. নিয়ামুল বাসির বলেন, "জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র যুক্তিসংগত নয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাতিল করা উচিত।"
গণঅধিকার পরিষদের সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ খান বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের বিচার আওতায় আনা প্রয়োজন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস কিংস পার্টির সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। আমরা সবাই বাংলাদেশী পরিচিত হতে চাই। শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী কোটা ছাড়া বাকি সব কোটা বাতিল করা হোক।"
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, "বাংলাদেশীদেরকে জাতি হিসেবে বিভক্ত করা যাবে না। আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি ভারতের আধিপত্য ও গোপন ষড়যন্ত্রের অংশ। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তি ও আদিবাসী বিষয়ক সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।"
বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি নিরাপত্তা ও আদিবাসীদের সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।"
মুজিবুর রহমান হামিনী বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ও বাঙালিদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।"
মুমিনুল আমিন বলেন, "দুর্নীতিগ্রস্ত ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত উপজাতি নেতাদের গ্রেফতার করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানাই।"
বাংলাদেশী খেলাফতে মসজিদের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, "শান্তিচুক্তি বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হোক।"
সভায় রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ তকির পক্ষ থেকে আদিবাসীদের দাবি, বিক্ষোভ ও আন্দোলন সংক্রান্ত একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতীয় সংঘের ঘোষণাপত্রের সার-সংক্ষেপ উপস্থিত সকলের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সূচনা বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক মেহেদী হাসান পলাশ। 
উল্লেখ্য, সভার প্রোগ্রাম সূচিতে নাম থাকলেও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ববি হাজ্জাজ ও ওয়াদুদ ভুইয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। সভাটি দুপুর ১:২০ ঘটিকায় শামসুজ্জামান দুদুর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।

-পার্বত্য সময়