কক্সবাজারের টেকনাফ রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন রোহিঙ্গারা জনপ্রতি মাত্র ১০ লিটার পানি পাচ্ছেন, যা তাদের জীবনধারণের প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম। মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) বলেছে, এই পানির সংকট রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (২৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমএসএফ জানায়, টেকনাফে চলমান পানির সংকটের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমএসএফ জানায়, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সংকট আরও খারাপ করেছে। টেকনাফ মূলত মজুদকৃত পানির ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু এই বছর পানির মজুদ কমে যাওয়ার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশে এমএসএফ-এর মিশন প্রধান আন্তোনিও কারাডোনা বলেন, “টেকনাফে প্রতিদিন জনপ্রতি ১০ লিটার পানি পাওয়া যায়, যা একজন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন রোগের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব এই সংকটের তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে।” 
নূর আলম নামের একজন রোহিঙ্গা তার কষ্টের কথা এমএসএফকে শুনিয়ে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে পানিসংকট তীব্র হতে দেখছি, এখানে সাহায্য–সহযোগিতাও অনেক সীমিত। অনেককেই বাধ্য হয়ে অনেক দূরে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পানি আনতে হয়, যা অনেক সময়সাপেক্ষ।”
এমএসএফ জানিয়েছে, জরুরি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকা সত্ত্বেও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত উন্নত করতে হবে। বিশেষভাবে কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ ও চর্ম রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি হ্রাস এবং অপুষ্টিজনিত সমস্যা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধের কার্যক্রম আরো জোরদার করার প্রয়োজন।
এমএসএফ একটি বোরহোল স্থাপন, পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহ সেবা শুরু করেছে এবং ক্যাম্পে ট্রাকের মাধ্যমে পানি সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে, এসব পদক্ষেপ সংকটের সাময়িক সমাধান দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী এবং পর্যাপ্ত নয়।
এমএসএফ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ এবং দাতাসংস্থাগুলোকে টেকসই পানি সরবরাহে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং দায়িত্বশীল অংশীদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছে।

-পার্বত্য সময়