চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫ জুন) রাত ১১টার দিকে নওগাঁ-১৬ বিজিবির রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ২২৫/৩-আর সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের আরকে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা এক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে ওই নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে নারীটিকে আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। পরবর্তীতে ওই নারীকে শূন্যরেখা বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১১ দিনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিন দফায় মোট ৪৪ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে প্রতিবারই স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
এদিকে, পরপর কয়েকটি পুশ-ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জেলার প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বিজিবি। সীমান্ত সুরক্ষায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। নদীপথে নৌকা টহল, স্থলপথে বাইনোকুলার ও ড্রোন ক্যামেরা এবং রাতের বেলায় নাইট ভিশন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন গভীর রাতে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির বাধার মুখে ওই ব্যক্তিদের পরে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া ৪ জুন বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের বেশ কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় বিএসএফ বারবার এ ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সীমান্তে বিজিবির বাড়তি সতর্কতা ও স্থানীয়দের সচেতনতায় এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে।


