চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌকা সীমান্ত দিয়ে আবারও ২০ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান ও স্থানীয়দের নজরদারির কারণে এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রায় ৬ ঘণ্টা শূন্যরেখায় অবস্থান করার পর বিএসএফ তাদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, পুশইনের চেষ্টায় থাকা দলে ১১ জন নারী, ৫ জন পুরুষ ও ৪ জন শিশু ছিল। সকালে চৌকা সীমান্ত দিয়ে প্রথম দফায় তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এরপর দুপুরে পুনরায় একই চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুখদেবপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি এনে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে অবস্থান করায়। পরে পরিস্থিতির চাপের মুখে তাদের ফেরত নেয়া হয়।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার রাত থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির সঙ্গে যৌথভাবে সীমান্ত পাহারায় অংশ নেন। অনেকে লাঠিসোঁটা, টর্চলাইট নিয়ে গ্রামজুড়ে টহল দেন।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত লোকজন দেখা গেলে দ্রুত জানাতে গ্রামে গ্রামে মাইকিং করা হয় এবং মসজিদে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্কতা জারি করে বিজিবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিনটি ব্যাটালিয়নের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সীমান্তে নদীপথে নৌকা, স্থলপথে বাইনোকুলার এবং ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে টহল চালানো হচ্ছে। রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাইট ভিশন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিনে সীমান্তে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্র।
গত ১৫ জুন রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।
এর আগে, ১৩ জুন একই সীমান্ত দিয়ে নদীপথে ১৫ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবির বাধায় তারা আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায়।
এছাড়া ৪ জুন বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়, যারা কয়েক দিন শূন্যরেখায় অবস্থানের পর ফিরে যায় বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, ক্রমাগত পুশইন চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি বলছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।


