রাঙামাটির কাউখালীতে এক রোহিঙ্গা তরুণীকে নিয়ে বাড়িতে আসার পর স্ত্রী ও এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছেন সুইচিং অং মারমা (২৪) নামে এক যুবক। পরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ওই যুবক ও তরুণীকে থানায় সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।

রোববার (১৬ আগস্ট) উপজেলার কাশখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সুইচিং অং মারমা উপজেলার ৪ নম্বর কলমপতি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বটতলী এলাকার বাসিন্দা অংশিপ্রু মারমার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের একটি ক্যান্টিনে বয় হিসেবে কাজ করছেন।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের জুমনগর ইসলামপুর এলাকার মনসুর আলীর মেয়ে শারমিন আক্তার রিয়া (১৮) চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে কাজের সুবাদে সুইচিং অংয়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সুইচিং অং ওই তরুণীকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা তরুণী সম্পর্কে জানতে চাইলে সুইচিং অং তাঁকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন। তবে বিয়ের পক্ষে কোনো কাগজপত্র বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সুইচিংয়ের স্ত্রী স্থানীয় কার্বারীর কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে তরুণীকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য স্থানীয়রা দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন নিজেকে রোহিঙ্গা বলে পরিচয় দেন বলে জানা গেছে। তবে থানায় নেওয়ার পর তিনি নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করেন। তাঁর বাড়ি কক্সবাজার জেলার জুমনগর ইসলামপুরে বলেও জানান তিনি।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল চৌধুরী বলেন, দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই তরুণী নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক দাবি করলেও তার দাবির পক্ষে কোনো কাগজপত্র বা পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

ওসি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই তরুণীর পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।