বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ ৮ হাজার ৯৭৫ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাচাই-বাছাই শেষে এসব ব্যক্তিকে সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মিয়ানমার বলেছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যাচাই করা এসব ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় এই স্বীকৃতিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া যাচাই করা সাবেক বাসিন্দাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একাধিকবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগের কারণে এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে কোনো প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়নি।

এদিকে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজ্যের বড় একটি অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই নতুন করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সংঘাতের কারণে আরও রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যায়।

বিশেষ করে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১.৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও বিভিন্ন সূত্রে এই নতুন ঢেউয়ের তথ্য উঠে এসেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় শিবিরে বসবাস করছে।

এছাড়া নুতন করে অনুপ্রবেশসহ বেসরকারি হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ১.৪ মিলিয়ন রোহিঙ্গা বর্তমানে বাংলদেশে বসবাস করছে।

বাংলাদেশ বরাবরই বলে আসছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই। অন্যদিকে রোহিঙ্গারাও মিয়ানমারে ফেরার আগে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দাবি করে আসছেন।