রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সামনে প্রত্যাবাসন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন ও বাংলাদেশে তাদের শোষণ—এই তিনটি পথ খোলা আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ: জবাবদিহি, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এই সেমিনারের আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কোন পথ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। একইভাবে, গুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বাধীন ও কার্যকর তদন্তব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

ক্যাম্প পরিদর্শন ও রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেমিনারে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রোহিঙ্গাদের আগ্রহ রয়েছে।

বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যে কমিটি করেছে, তাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন কমিটি ও কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশ ও সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল। তাই এই কমিটির কাজেরও নিয়মিত অনুসরণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে দেখার জন্য একটি ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি’ গঠনেরও প্রস্তাব দেন তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকটকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভারতের কালাদান প্রকল্পের নিরাপত্তা ও বাস্তবায়ন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ বিষয়টি কাজে লাগিয়ে ভারতকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও সক্রিয় করা সম্ভব। একইভাবে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উদ্যোগও বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ সীমিত এবং আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারকে ঘিরে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো শক্তিগুলোর স্বার্থ রয়েছে। এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে আলোচনা করে প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে হবে।