কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হলো। শেষ পর্যন্ত এই আসরে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লাউতারো মার্টিনেজের একমাত্র গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তার লক্ষ্যভেদী শটে ১-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হলো আর্জেন্টিনা।
সর্বোচ্চ ১৫ কোপা শিরোপা জয়ীর তালিকায় উরুগুয়ের সঙ্গে সমান অবস্থানে ছিলো আর্জেন্টিনা। তবে ২০২৪ এসে টুর্নামেন্টটির ৪৮তম আসরের ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৬ শিরোপার মালিক এখন আর্জেন্টিনা।
এই জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রাখেন জড়ান ইন্টার মিলানের তারকা মার্টিনেজ। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১২২ মিনিটের মাথায় লো সেলসো ফ্লিকে বল বাড়িয়ে দেন ডানদিকে থাকা লাওতারোকে। বল পেয়েই এই ফরোয়ার্ড ঢুকে পড়েন বক্সের মধ্যে। কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ভার্গাস এর মাথার উপর দিয়ে জোরালো শট নিয়ে বল জালে জড়ান মার্টিনেজ।
সোমবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের থেকে ৮৩ মিনিট পড়ে শুরু হয় খেলা। টিকিট ছাড়াই দর্শকদের মাঠে ঢুকে পড়ার কারণে মূল সমস্যাটা হয়। অবশেষে দর্শকদের নিয়ন্ত্রণে এনে শেষ পর্যন্ত ভোর ৬টার ম্যাচ শুরু হয় বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। প্রথম মিনিটে গঞ্জেলো মনটিয়েলের ক্রস থেকে হুলিয়ান আলভারেজের হেড গোলবারের বাঁ-পাশ মিস করে বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর ৫ মিনিটে লুইস দিয়াজ ও ১৩ মিনিট কার্লোস কুয়েস্টা কলম্বিয়ার হয়ে দুটি আক্রমণ করে।
২০ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রস থেকে বাঁ-পায়ের শট নেন লিওনেল মেসি। তবে মেসির শট সেভ করেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস। ৩২ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ করে কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা সেটি ব্লক করে দিলেও কর্নার পেয়ে যায় কলম্বিয়া। তবে কর্নার কিক থেকে বল তালুবন্দি করে নেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
এর তিন মিনিট পর ফের আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের ভেতরে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডারদের ড্রিবলিং করে বল নিয়ে আগানোর চেষ্টা করছিলেন মেসি। তবে শেষ পর্যন্ত আর লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি। বল চলে যায় মাঠের বাইরে। চোটও পেতে হয় মেসিকে, তবে তখনও মাঠ ছেড়ে যাননি তিনি।
৪০ মিনিটে রড্রিগেজের ক্রস থেকে হেড নেন কলম্বিয়ার জন অ্যারিয়াস। তবে ডানপাশ দিয়ে বল চলে যায়। ৪২ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা, সেখান থেকে কিক নেন মেসি। ডি-বক্সের ভেতর আর্জেন্টিনার নিকোলাস ত্যাগলিয়াফিকোর হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। অবশেষে গোল না করেই বিরতিতে যেতে হয় দুই দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমেই আক্রমণ কলম্বিয়ার, ৪৭ মিনিটে সান্তিয়াগো অ্যারিয়াসের ডান পায়ের দ্রুতগতির শট গোলবারের ডানপাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর কাউন্টার অ্যাটাকে যায় আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের অ্যাসিস্ট থেকে ডি মারিয়ার করা বাঁ-পায়ের শট সেভ দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক।
৫৪ মিনিটে গোল করার আরেকটি সুযোগ তৈরি করে কলম্বিয়া। ডেভিনসন সানচেজের হেড চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে। কর্নার কিক থেকে হেড করে তাকে অ্যাসিস্ট করেছিলেন জন কর্ডোবা।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটের ঘটনা হয়তো আর্জেন্টিনা ফুটবলের জন্য দুঃসহ স্মৃতি হয়ে থাকবে। আক্রমণভাগে যখন দলের বিশৃঙ্খল অবস্থা, তখনই ইনজুরিতে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে। নিজেই দৌড়াতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছেন। তারকা এই ফুটবলারের চোট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রায় বেরিয়ে আসছিল।
মেসিকে অবশ্য কেউ ফাউল করেনি। এরপর আর তাকে মাঠেই রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। বদলি হিসেবে নিকোলাস গঞ্জালেজকে মাঠে নামান তিনি।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বল জালে জড়িয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির বদলি হিসেবে নামা গঞ্জালেস পেয়েছিলেন জালের নাগাল। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। পরে ৮৮ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। ডি মারিয়ার ক্রস গোলবারের সামনে বাড়ান নিকো গঞ্জালেস, কিন্তু জুলিয়ান আলভারেজ সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। ৮৭ মিনিটে ডি মারিয় আরেকটি ভালো ক্রস দিলেও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো বলটা রাখতে পারেনটি।
শেষ মুহূর্তে কলম্বিয়ার বক্সে পরপর কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি ডি মারিয়া। এতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থেকে যায় ম্যাচ। পরে ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এর আগে সেমিফাইনাল পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত সময় ছিল না।
-পার্বত্য সময়

