২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে গিয়ে এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি স্থগিত করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
প্রস্তুতি স্থগিতের ঘোষণা পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক নির্দেশনায় জাতীয় দলের বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সকল পরিকল্পনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি টিম ম্যানেজমেন্টকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির কথা বলেছেন। অর্থাৎ, পাকিস্তান যদি শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপে অংশ না নেয়, তবে দলটি সেই সময়ে অন্য কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা কার্যক্রমে অংশ নেবে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মূল কারণ হলো নিরাপত্তা উদ্বেগ। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে গিয়ে এই টুর্নামেন্ট খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশের এই অবস্থানকে 'যৌক্তিক এবং সঠিক' বলে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। পিসিবি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের কোনো সুরাহা না হয় এবং ভারত ভ্রমণের বিষয়ে তাদের অনড় অবস্থান বজায় থাকে, তবে পাকিস্তানও এই ইভেন্ট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে পারে।
টুর্নামেন্টের সূচি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে এই মেগা ইভেন্ট শুরু হওয়ার কথা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে নেদারল্যান্ডসের। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পুরো টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ এখন ঝুঁকির মুখে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এখনও বিকল্প ভেন্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে সূত্র বলছে, দুই বড় দল অংশ না নিলে টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক মূল্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। সেক্ষেত্রে আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তন করবে না কি পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে ছাড়াই টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে, তা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।

