মাত্র ৩ মাস হয়েছে কক্সবাজার-ঢাকা রেলযাত্রা শুরু। শুধুমাত্র এই ৯০ দিনে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি হয়েছে ১০ কোটি টাকার। ৬ কোটি টাকার টিকিট ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস মিলিয়ে বিক্রি হলেও শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারি মাসে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি টাকার টিকিট।
বিশ্বমানের এই নান্দনিক আইকনিক রেলস্টেশন দেখে যাত্রীরা অনেক খুশি হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা চালু না হওয়ায় তাদের অনেকে হতাশ। সারা দেশের সঙ্গে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ায় কক্সবাজারে শিল্প-কারখানা গড়ে উঠার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের আমূল পরিবর্তন আসেব বনে মন্তব্য করছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে তৈরি হবে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা। এদিকে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ট্রেনের গতি, যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়ও বাড়বে।
দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলস্টেশনটিার মূল আকর্ষণ ঝিনুকের ফোয়ারার মতো এর আদল। ঝকঝকে আধুনিক এ স্টেশন অনেকটা উন্নত বিশ্বের বিমানবন্দরের মতো। কক্সবাজারবাসীর কাছে দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন; ছিল স্বপ্নের মতো। নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে শেষমেশ এ রেললাইনের কাজ শেষ হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর। আর ১১ নভেম্বর এ রেলপথের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পহেলা ডিসেম্বর, ২০২৩। বাণিজ্যিকভাবে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে শুরু হয় ট্রেন চলাচল। প্রথমে কক্সবাজার এক্সপ্রেস যাত্রা করলেও যাত্রী চাহিদা তুঙ্গে থাকায় বাড়ানো হয় আরও একটি ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস। কিন্তু তারপরও যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না ট্রেনের টিকিট। প্রতিনিয়ত ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ছে যাত্রী, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। ট্রেন চলাচলের ৩ মাস পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি এসব সুযোগ-সুবিধা। শুধুমাত্র একটি কক্ষে কাউন্টার চালু করে কোনো রকম চলছে টিকিট বিক্রি।
চট্টগ্রামের যাত্রী দেলোয়ার বলেন, ‘বর্তমানে এই রুটে ট্রেনের সংখ্যা মাত্র দুটি। যে কারণে পর্যাপ্ত টিকিট পাওয়া যায় না। এছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে আমরা নির্ধারিত সময়ে ট্রেন পাচ্ছি না। আমি আশা করছি, যদি আরও কিছু ট্রেন বাড়ে সেক্ষেত্রে স্টেশনটা আরেকটু লোকারণ্য হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামবাসী আমরা যারা আছি আমাদের জন্যও সুবিধা হবে।’
স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও কক্সবাজারে গড়ে ওঠেনি কোনো ধরনের শিল্প কারখানা। নামে মাত্র রয়েছে কিছু লবণ মিল ও চিংড়ি হ্যাচারি। তবে, শিল্প বিকাশে এবার আশার আলো দেখাচ্ছে কক্সবাজার রেলপথ। এর মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘চীনের কুনমিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এ রেললাইন। এতে দেশের রেল ও অর্থনীতিতে অপার সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
এদিকে, আগামী জুনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হচ্ছে আইকনিক স্টেশনের কাজ। তারপর বাংলাদেশ রেলওয়ে তৃতীয় পক্ষকে হস্তান্তর করে স্টেশনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করবে বলে জানিয়েছে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান।
আর আইকনিক স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩ মাসেই কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে টিকিট বিক্রি হয়েছে ১০ কোটি টাকার।
কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ট্রেন চালু হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এখন কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস দুটি ট্রেন ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরও ট্রেন এই রুটে পাব। ঢাকা থেকে তূর্ণা ও মহানগর এই দুটি ট্রেন কক্সবাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া চাঁদপুর থেকে মেঘনাও এই রুটের সঙ্গে যুক্ত হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম কমিউটার ট্রেন চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।’
‘এখন সবার পছন্দের গন্তব্য কক্সবাজার। যারা কক্সবাজার আসতো না তারাও এখন ট্রেন চড়ে কক্সবাজার ভ্রমণে আসছে। তাই কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনে টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। পর্যাপ্ত ট্রেন বা বগি না থাকাতে টিকিটও দেয়া যাচ্ছে না। তাই এই রুটে আরও ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো খুবই প্রয়োজন।’
চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা।
-পার্বত্য সময়

