শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। রবিবার (২৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে এসএলসিকে নজরে রেখেছিল আইসিসি। এই সময়ে লঙ্কান বোর্ডের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়েছে তারা। ফলে এখন থেকেই তাদের ওপর আর কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখছে না আইসিসি।
এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, ‘আইসিসি বোর্ড শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। আইসিসি বোর্ড বলেছে, তারা স্থগিতাদেশের পর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখন সন্তুষ্ট যে, এসএলসি আর সদস্য পদের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করছে না।'
গত ১০ নভেম্বর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটকে সাময়িক সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেয় আইসিসি। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে তাদের সদস্য পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে এসএলসির সকল সদস্যকে বরখাস্ত করেছিলেন দেশটির তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী রোশান রানাসিংহে। ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের এমন হস্তক্ষেপের পর নিয়ম অনুযায়ী এসএলসিকে বরখাস্ত করে আইসিসি।
যার সিদ্ধান্তে এত বড় শাস্তি পেয়েছিল দেশের ক্রিকেট বোর্ড, সেই রোশানকেও পরে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বরে তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বরখাস্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে।
নতুন ক্রীড়া মন্ত্রী হয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সদস্যদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত তুলে নেন হারিন ফার্নান্ডো। এবং আইসিসির সকল নিয়ম মেনে পুনরায় ক্রিকেট চালিয়ে যেতে আইসিসির সহযোগীতা কামনা করেন। এরপর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে আইসিসি। এই সময়ে আর সদস্যপদের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন না করায় এবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপে ভারতের কাছে শ্রীলঙ্কার অসহায় আত্মসমর্পণের পর পুরো ক্রিকেট বোর্ডকে বহিষ্কার করেন ক্রীড়ামন্ত্রী রোশান রনসিংহে। বোর্ডের দায়িত্ব দেন অন্তর্বর্তীকালীন কমিটিকে। আদালত পুনরায় আগের বোর্ডকে ফেরালেও প্রশাসনে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে গত ১০ নভেম্বর এসএলসিকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আইসিসি।
এরপর গত ২১ নভেম্বর আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আইসিসি ইভেন্ট ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে পারবে লঙ্কানরা। তবে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়।
শ্রীলঙ্কার মতো সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০১৯ সালে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সদস্যপদ স্থগিত করেছিল আইসিসি। জিম্বাবুয়ের প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন ছিল। সেখানে দেশের সব ক্রিকেট কার্যক্রম হুট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
- -পার্বত্য সময়

