টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাত, ভারী বর্ষণে দেয়াল ও পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম নগর, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও কক্সবাজারে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে শতাধিক গ্রাম, বিচ্ছিন্ন হয়েছে সড়ক যোগাযোগ এবং বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র।
চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ। ভারী বর্ষণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও অনেক স্থান থেকে দ্রুত পানি নেমে গেছে। পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে নগরীতে একজন এবং রাঙ্গুনিয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
কক্সবাজারে দুর্যোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। গত দুই দিনের বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার নতুন করে উখিয়া, মহেশখালী ও কক্সবাজার সদর এলাকায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকা অন্তত ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৮৯ পরিবারকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কুতুবদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়ার অন্তত ৪০টি গ্রাম পানির নিচে চলে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই কারণে সেন্ট মার্টিনের দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে জেলা প্রশাসন।
অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। প্রায় সব ফ্লাইট বিলম্বে চলাচল করেছে। রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনও আটকে পড়ে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসও সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।
রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পাহাড়ধসে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের একাধিক স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুই জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ির বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে এবং বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুর্যোগের কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালীও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটকদের পাহাড়ি ট্রেইল, ঝর্ণা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনগুলো জানিয়েছে, আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


