২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ২ হাজার ২৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। মঙ্গলবার (৩০ জুন) নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মেয়র শাহাদাত হোসেন এ বাজেট ঘোষণা করেন। একই অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ৯২ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও ঘোষণা করা হয়। মূল বাজেট ছিল ২ হাজার ১৪৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা, ফলে বাস্তবায়নের হার ৭৮ শতাংশ।
বাজেটে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে চসিক। মোট বাজেটের মধ্যে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকরসহ বিভিন্ন কর খাত থেকে ৮১১ কোটি ৯০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সরকারি উন্নয়ন অনুদান হিসেবে ৯৭৫ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করছে সংস্থাটি।
ব্যয়ের মধ্যে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮২৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ব্যয় হবে ৪৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। এ অর্থ সিটি করপোরেশনের ছয়টি প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার এবং বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে। এছাড়া দেনা পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮৪ কোটি টাকা।
নগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা নিরসনে এবার ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৭৫ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। গত অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৬৫ কোটি টাকা। মশকনিধন কার্যক্রমেও বরাদ্দ বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯ কোটি টাকা, তবে ব্যয় হয়েছিল ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করাই তার লক্ষ্য। এজন্য রাজস্ব আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নগরবাসীর প্রত্যাশা একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগর গড়ে তোলা। তবে আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব নয়।
বাজেট অধিবেশনে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির চৌধুরীসহ চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


