কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের কাছে একটি মাঠ থেকে আবদুল আজিজ (২৭) নামের এক হোটেল কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ইনানী সৈকতের পূর্ব পাশে পাঁচতারকা হোটেল বে-ওয়াচের স্টাফ কোয়ার্টারের পাশের খালি জায়গা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবদুল আজিজ উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমদের ছেলে। তিনি প্রায় এক বছর ধরে হোটেল বে-ওয়াচে কর্মরত ছিলেন এবং হোটেলের গরুর খামার দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি স্টাফ কোয়ার্টারেই থাকতেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশের খালি জায়গায় আজিজের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহতের স্ত্রী সায়কা ইয়াছমিন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে আজিজ বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফিরে যান। বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। পরে রাত একটার দিকে তিনি জানতে পারেন, আজিজের মরদেহ মাঠে পড়ে আছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আজিজকে মারধর বা শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সায়কা ইয়াছমিন বলেন, তাদের সংসারে তিনটি মেয়ে রয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজিজ একজন পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। তাঁর মৃত্যু রহস্যজনক। ঘটনার তদন্তে স্টাফ কোয়ার্টারের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বে-ওয়াচ হোটেলের উপমহাব্যবস্থাপক এনায়েত উল্লাহ বলেন, আবদুল আজিজ স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন এবং হোটেলের গরুর খামার দেখাশোনা করতেন। তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।


