বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাত্র ছয়জন মানুষের মুখে বেঁচে আছে বিলুপ্তপ্রায় রেংমিটচ্য ভাষা। এই ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে এবার প্রকাশ করা হয়েছে দৈনন্দিন কথোপকথনভিত্তিক একটি বই।
ম্রো ভাষার লেখক ও গবেষক ইয়াঙান ম্রো রেংমিটচ্যভাষীদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বাক্যগুলো সংগ্রহ করে বইটি প্রকাশ করেছেন। যেহেতু ভাষাটির নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই, তাই ম্রো ও বাংলা অক্ষরে রূপান্তর করে মুদ্রণ করা হয়েছে। বইটির নাম ‘তেক মিটচ্য তখক’ (বাংলায় অর্থ: রেংমিটচ্য ভাষায় কথা বলা)। ২৮ পৃষ্ঠার এই বইয়ে রয়েছে সাধারণ কথোপকথন ও সংখ্যা গণনার উদাহরণ।


এর আগে ২০২৩ সালে ইয়াঙান ম্রো রেংমিটচ্য ভাষার শব্দভান্ডার নিয়ে আরেকটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তিন হাজারের বেশি শব্দ সংকলন করা হয়।
রেংমিটচ্যভাষী মাত্র ছয়জন মানুষই এখন এই ভাষার অস্তিত্ব ধরে রেখেছেন। তাদের বয়স ৬০ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট সতর্ক করেছে—এই ছয়জন মারা গেলে পৃথিবী থেকে মুছে যাবে রেংমিটচ্য ভাষা।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড এ. পিটারসন, ডার্থমাউথ কলেজের ভাষাতত্ত্ববিদ, প্রথম আলীকদমে এসে রেংমিটচ্য ভাষাভাষীদের খুঁজে বের করেন। সেই সময় সহযোগী হিসেবে ছিলেন ইয়াঙান ম্রো। পরবর্তীতে তিনি নিজেই এ ভাষা নিয়ে গবেষণা ও বই প্রকাশ শুরু করেন।
ভাষাটিকে প্রামাণ্য দলিলে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছেন গবেষক আফসানা ফেরদৌস আশা, যিনি আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনে এ বিষয়ে পিএইচডি করছেন। বর্তমানে তিনি আলীকদমের বিভিন্ন পাড়ায় থেকে তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টেশন) সংগ্রহ করছেন।
তিনি বলেন, এই ভাষা নিয়ে যত বেশি কাজ হবে, টিকে থাকার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। মাঠ পর্যায়ে ডকুমেন্টেশন করতে গিয়ে ম্রোদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এমনকি নতুন করে একজন রেংমিটচ্যভাষীকে পাওয়া গেছে, যিনি অনর্গল কথা বলতে পারেন।
গবেষকরা মনে করছেন, রেংমিটচ্য ভাষার নতুন পরিবার গড়ে না উঠলেও নিয়মিত ব্যবহার, নথিবদ্ধকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে অন্তত মুখে মুখে এই ভাষাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
-পার্বত্য সময়


