এ এইচ এম ফারুক

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তঘেঁষা পর্বতমালা পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যের আধার নয়। এটি বাংলাদেশের জাতীয় ভূখণ্ড, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের এক অতীব সংবেদনশীল হৃদপিণ্ড। দেশের মোট আয়তনের এক-দশমাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই ভূখণ্ড। এই ভূখণ্ডের ওপর নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বহু শক্তির। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ-বিরোধী অপতৎপরতা প্রকাশ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারক ও সুশীল সমাজের উদাসীনতা ও রহস্যজনক নীরবতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এই নীরবতা রাষ্ট্রের অখণ্ডতার জন্য এক গভীর দুশ্চিন্তার বার্তা বহন করে।

৪৭-এর ইতিহাস ও ‘চাকমা ব্ল্যাক ডে’র নেপথ্য মনস্তত্ত্ব

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিদায় ঘটে। তখন বাউন্ডারি কমিশন (রেডক্লিফ কমিশন)-এর সিদ্ধান্তে ১৭ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেনি তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা নেতৃত্বের একটি অংশ। তৎকালীন চাকমা নেতা স্নেহকুমার চাকমার নেতৃত্বে রাঙ্গামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, বান্দরবানে মারমা নেতাদের একটি অংশ মিয়ানমারের (তৎকালীন বার্মা) পতাকা উড়িয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে অভিযান চালায়। তারা সেই বিদেশি পতাকা নামিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে। এভাবে সেখানে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়। স্বাধীন-সার্বভৌম 'বাংলাদেশ' রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থেকে যায়।

দুঃখজনক বিষয় হলো, সাত দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। তবুও এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তকে চাকমা জনগোষ্ঠীর একাংশ মন থেকে গ্রহণ করতে পারেনি। বিশেষ করে ভারতীয় চাকমারা তা মেনে নেয়নি। প্রতিবছর ২০ আগস্ট রাঙ্গামাটিতে ভারতের পতাকা নামিয়ে ফেলার দিনটি আসে। এই দিনটিকে স্মরণ করে ভারতীয় ও বাংলাদেশি প্রবাসী চাকমারা এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করে। তারা এই দিনটিকে ‘চাকমা ব্ল্যাক ডে’ বা ‘চাকমা কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে যাচ্ছেন।

একসময় বাংলাদেশেও অনানুষ্ঠানিকভাবে বা আড়ালে এই দিবস পালনের চেষ্টা চলত। কিন্তু তা স্থানীয় সচেতন মহল এবং গণমাধ্যমের কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়েছে। তবে প্রবাসী এবং ভারতীয় চাকমারা একে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল ও ভূরাজনৈতিক অপতৎপরতা

আগের ধারাবাহিকতায় গত ২০ আগস্টও ‘চাকমা ব্ল্যাক ডে’ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উপলক্ষে ভারতের দিল্লি, আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরামের বিভিন্ন স্থানে বহুমাত্রিক কর্মসূচি ও অনলাইন ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারত, বাংলাদেশ এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত চাকমারা একত্রিত হয়। তারা ১৯৪৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তান (পরবর্তীতে বাংলাদেশ) ভুক্তিকে একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। একই সাথে তারা তা সংশোধনের তীব্র দাবি তোলে।

গণমাধ্যমের তথ্যমতে, অনলাইন আলোচনা সভাগুলোতে যেসব বক্তব্য এসেছে, তা কেবল আপত্তিজনকই নয়। এগুলো সার্বভৌম বাংলাদেশের অখণ্ডতার সরাসরি লঙ্ঘন। যেমন-
১. আন্তর্জাতিক আদালতের হুমকি: ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া কিছু বক্তা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য দেন। তারা ঘোষণা করেন, ৪৭-এর এই ‘ঐতিহাসিক ভুল’ সংশোধন করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের হাত থেকে বিচ্ছিন্ন করার দাবিতে তারা হেগ-এ অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
২. ভারত সরকারকে উস্কানি ও চাপ সৃষ্টি: বক্তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দোহাই দেন। তারা শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানান। তারা ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি দাবি তোলেন। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য তারা ভারতকে আহ্বান জানান।
৩. ভারতের দায়িত্বশীলদের অংশগ্রহণ: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ভারতের দায়িত্বশীলদের উপস্থিতি। ভারতে আয়োজিত এসব ‘ব্ল্যাক ডে’র বিভিন্ন সভা-সমাবেশে ভারতীয় কয়েকটি রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতেই স্বাধীন বাংলাদেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন করার উস্কানিমূলক আলোচনা চালানো হয়েছে।

এখানে একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামে ও ভারতে বহু নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। যেমন: মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম ইত্যাদি। কিন্তু কেবল চাকমাদের একটি বিশেষ অংশই এই ‘ব্ল্যাক ডে’ উদযাপন করে আসছে। মারমারাও ৪৭ সালে বান্দরবানে বার্মার পতাকা তুলেছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতাকে মেনে নিয়েছে। তারা মূলধারার সাথে মিশে গেছে। যদিও ইদানিং আবার কিছু মারমাকে নতুন করে বার্মার মগ বাহিনী আরাকান আর্মির দলে টানার তথ্য সামনে এসেছে। কিন্তু একটি বিশেষ মানসিকতার চাকমাগোষ্ঠী এখনও ১৯৭১-পরবর্তী সার্বভৌম বাংলাদেশকে মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করছে।

আরো বেদনাদায়ক বিষয় হলো বাংলাদেশের সুশীল সমাজের ভূমিকা। ভারতের মাটিতে যখন বাংলাদেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়, তখন সুশীল সমাজ বা পাহাড়ি বুদ্ধিজীবীদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ আসে না। একটিবারের জন্যও স্পষ্ট প্রতিবাদ ধ্বনিত হয় না। কেউ জোর গলায় বলতে শোনেনি— ‘Right or wrong, Bangladesh is now my country. We don't have any issues with 1947 now.’ বরং বাংলাদেশের কতিপয় নাগরিকের মধ্যে ভিন্ন প্রবণতা দেখা যায়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেক ও রিয়েল আইডি থেকে এসব ভারতভিত্তিক দেশবিরোধী ইভেন্ট শেয়ার করে। এতে লাইক দেয় এবং সমর্থন জানানোর নজির তৈরি করে।

‘বঙ্গভূমি’ পুনরুত্থান ও ভারতীয় ভূখণ্ডের অপব্যবহার

পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চক্রান্ত কেবল পাহাড়েই সীমাবদ্ধ নেই। এটি মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে অন্য একটি চক্রান্তের সাথে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার ঐতিহাসিক ‘বঙ্গভূমি’ আন্দোলনের সাথে এর যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর সাবেক এজেন্ট ড. কালিদাস বৈদ্য এবং চিত্তরঞ্জন সুতার এই আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাদের গড়ে তোলা তথাকথিত ‘বঙ্গভূমি’ আন্দোলন সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ‘বঙ্গসেনা’ পরিচয়ধারী এই চরমপন্থী গোষ্ঠীটি নিয়মিত সমাবেশ করছে। কলকাতার শিয়ালদহসহ পশ্চিমবঙ্গের নানা স্থানে তারা জড়ো হচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের বিশাল এলাকা বিচ্ছিন্ন করা হবে। সেখানে একটি স্বাধীন ‘বঙ্গভূমি’ গঠন করা হবে অথবা তাকে ভারতের সাথে যুক্ত করা হবে।

ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে। একের পর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী চক্রান্ত এগোচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একই সাথে এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার প্রথাগত কূটনৈতিক নীতিরও চরম লঙ্ঘন।

নীতি-নির্ধারক ও সুশীল সমাজের বিপজ্জনক নীরবতা

সবচেয়ে মর্মান্তিক ও উদ্বেগের বিষয় হলো অভ্যন্তরীণ নীরবতা। আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নীরব। রাজনৈতিক দলসমূহ, মূলধারার গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজ অদ্ভূত নীরবতা পালন করছে।
একবার কল্পনা করুন একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি। যদি পাকিস্তানের কোনো একটি গোষ্ঠী বা সংগঠন এমন উদ্যোগ নিত! তারা যদি লাহোর বা করাচিতে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিত যে, তারা ১৯৭১ সালের পরাজয় মেনে নিচ্ছে না! বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পাকিস্তানের প্রদেশ বানানোর জন্য তারা যদি রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করত! তখন বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া কী হতো? আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি নীরব থাকত? আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো কি রাজপথে উত্তাপ ছড়াত না? আমাদের টকশো, বুদ্ধিজীবী সমাজ এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা কি গর্জে উঠতেন না?

তাহলে দিল্লির বা কোলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন এই হুংকার দেওয়া হচ্ছে? কেন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডকে সরাসরি খণ্ডিত করার কথা বলা হচ্ছে? তখন কেন আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখে কুলুপ আঁটা? কেন আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো কোনো কড়া বিবৃতি দেয় না? যারা সকাল-সন্ধ্যা ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিয়ে মুখরিত করেন, তারা কেন নিশ্চুপ? তারা কেন এই নির্দিষ্ট আগ্রাসী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কোনো প্রেস রিলিজ ইস্যু করতেও ব্যর্থ হন?

আমাদের দেশের জাতীয় গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকাও হতাশাজনক। এসব চাঞ্চল্যকর বিষয় নিয়ে সেখানে কোনো খোলামেলা আলোচনা নেই। কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নেই। দেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক আলোচনাগুলো কেন সীমাবদ্ধ থাকবে? তা কেন কেবল বিশেষ কূটনৈতিক সফর বা কয়েকজন নির্দিষ্ট অপরাধী হস্তান্তরের সমীকরণে আটকে থাকবে? দেশের এক-দশমাংশ ভূখণ্ডের অখণ্ডতার প্রশ্নটি কি চরম গুরুত্বপূর্ণ নয়? যেকোনো কূটনৈতিক দরকষাকষির চেয়ে কি এটি বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য নয়?

অখণ্ডতার সুরক্ষা এবং জাতীয় জাগরণ

বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি অত্যন্ত মূল্যবান। এ দেশের ত্রিশ লাখ শহীদ এবং কোটি মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে তা অর্জিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল—কোনো অংশকেই আলাদা হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে কোনো ভূখণ্ড বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্ত সহ্য করা হবে না।

ভারত সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের উচিত তাদের দেশের মাটিকে বাংলাদেশবিরোধী কাজে ব্যবহার করতে না দেওয়া। কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী মনস্তাত্ত্বিক তৎপরতায় তা ব্যবহৃত হতে দেওয়া উচিত নয়। ভারতকে মনে রাখতে হবে—যদি বাংলাদেশেও ভারত বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সুযোগ দেয়া হয় তবে পরিস্থিতি কেমন হবে?

পরিশেষে বলতে চাই—বাংলাদেশকে অবিলম্বে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে এই ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে।

একই সাথে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ প্রয়োজন। যেমন—পার্বত্য চট্টগ্রামের আপামর জনগণকে সচেতন করা। তাদেরকে বিভ্রান্তিকর ইতিহাসচর্চা থেকে বের করে আনা। তাদেরকে রাষ্ট্রের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা।

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত বিষয় নয়। এটি পুরো জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে অবহেলা, উপেক্ষা এবং গুরুত্বহীনতার নীতি বন্ধ করা প্রয়োজন। তা না হলে আগামী দিনে দেশকে এক বিশাল ভূরাজনৈতিক মাশুল গুনতে হতে পারে। এখনই সময় সোচ্চার হওয়ার। সত্যকে উন্মোচন করার সময় এখনই। যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।