রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সাংবাদিক রুপম চাকমাকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছেন, সেনাবাহিনীসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের কারণে একটি নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে রুপম চাকমা লেখেন, সেনাবাহিনীর সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পোস্টে তিনি হুমকি দেওয়া নম্বর হিসেবে একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করেন।

রুপম চাকমা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের বালুঘাট ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি অতীতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রুপম চাকমা একসময় সাজেকে ইউপিডিএফের সংগঠক ও অর্থসংগ্রাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে প্রায় দুই বছর আগে সংগঠনটির সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় এবং পরে তিনি ইউপিডিএফ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান বলে সূত্রগুলো জানায়।

এরপর কিছু সময় ভারতে অবস্থান শেষে গত বছর তিনি সাজেকে ফিরে আসেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিডিএফের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে লেখালেখি শুরু করেন এবং সাংবাদিকতায় যুক্ত হন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ সময় ইউপিডিএফের সমর্থকদের সঙ্গে তার বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

রুপম চাকমার অভিযোগ, সেনাবাহিনীসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরেই তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, হুমকি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বাঘাইহাট এলাকায় ইউপিডিএফের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যবহৃত নম্বর।

রুপম চাকমা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউপিডিএফের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করছেন। স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য, অতীতে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর বর্তমানে তিনি এর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইউপিডিএফের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ইউপিডিএফের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হত্যার হুমকির ঘটনায় রুপম চাকমা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

সাংবাদিককে হত্যার হুমকির অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করে হুমকিদাতাদের শনাক্ত এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।