পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের জীবিকায়ন, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বিদ্যমান বাধাসমূহ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গোলটেবিল আলোচনা সভা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ভবনে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, গ্রিন ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল প্রোটেকশন ডেলিগেশন অব দ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন টু বাংলাদেশের টিম লিডার ও ফার্স্ট কাউন্সেলর এডউইন কোক্কোক, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলহাস আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয়, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নিখিল চাকমা এবং প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরীসহ গণ্যমান্য প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, তিন পার্বত্য জেলার কৃষি বিভাগের অবহেলার কারণে জুমচাষে উন্নতি হচ্ছে না। বর্তমানে পাহাড়ে জুমে শুধু আউশধান উৎপন্ন করা হয়। ভবিষ্যতে জুমে আউশ ও আমন ধান উৎপন্ন করা প্রয়োজন। কাপ্তাই লেক কে রাঙামাটি জেলা পরিষদের অধীনে নিয়ে আসা উচিত। তাহলে সাধারণ মানুষ এটার সুফল ভোগ করতে পারবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রাইভেট সেক্টরের ইনভেস্টমেন্ট করার সুযোগ রয়েছে। পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে যাবে। পার্বত্য এলাকায় নিরাপত্তা জনিত একটি সমস্যা আছে। সেখানে পানির সংকট, বিদ্যুতের সংকট নিয়ে কাজ করতে হবে। নারীরা অনেক পিছিয়ে আছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০ বছর ধরে কাজ করছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরতদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ধারণ করে উন্নয়ন করা উচিত। পাহাড়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ জুমচাষের ওপর নির্ভরশীল। পার্বত্য চুক্তির পরে প্রায় ১৩০০ পরিবার যথাযথভাবে পুনর্বাসিত হয়নি। পাহাড়ে উন্নয়ন তাদেরকে নিয়েই করতে হবে। পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে জেলা পরিষদ আইন সৃষ্টি হয়েছে। এই জেলা পরিষদ আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা উচিত। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কাজগুলি সকলের নিকট তুলে ধরতে হবে। প্রান্তিক পর্যায়ের অনেকেই অবহেলিত।
পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে বর্তমানে শুকনো মৌসুম চলছে। এই মৌসুমে খাবার পানির সংকট দেখা দেয়। যার ফলে জন্ডিস, হেপাটাইটিস রোগে অনেকেই আক্রান্ত হয়। প্রান্তিক পর্যায়ে হতদরিদ্র জুমচাষীদের বিশেষভাবে দেখা উচিত।
উল্লেখ্য, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ২০২৩ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় তিন পার্বত্য জেলায় ‘পিআরএলসি (পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইন সিএইচটি)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। মূলত এই প্রকল্পের কার্যক্রম ও পার্বত্য অঞ্চলের জীবিকায়ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।


