ভারীবর্ষণে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধস ও গাছ উপড়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালের দিকে উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বালুচরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে। একই সময়ে পাহাড়ের মাটি ধসে সড়কের একটি অংশ ঢেকে যাওয়ায় দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার এবং কাপ্তাই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুব হাসান বাবু ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ ও মাটি সরানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় সড়ক সচল করার কাজ চলছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম। এ সময় কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ভারী বর্ষণ ও সম্ভাব্য পাহাড়ধস মোকাবিলায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি জোরদার করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১১টিসহ জেলায় মোট ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া পৌর এলাকার ২৯টি স্থানকে পাহাড়ধস প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ও পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ বসবাস করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পৌর শহরের শিমুলতলী, রূপনগর, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকা, রিজার্ভ বাজার, ভেদভেদি ও লোকনাথ মন্দির এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থান।

টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।