রাঙামাটির কাউখালীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাউখালী উপজেলার কলমপতি ইউনিয়ন সদরের পোয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় নিজে বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে কাউখালী থানা পুলিশ।
তবে জনসংহতি সমিতি- জেএসএস (সন্তু) এর মুখপাত্রে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে বাঙালি সেটেলার কর্তৃক গণধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এতে বলা হয়, সোমবার রাঙ্গামাটির কাউখালীতে এক দল সেটেলার বাঙ্গালি কর্তৃক দিবাগত রাতে এক আদিবাসী মারমা তরুণীকে(২০) পিতা-মাতার সামনে থেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছে।
একইভাবে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর মুখপাত্রে দাবি করা হয়, গত ১৫ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত ১২টার সময় কাউখালী বাজার এলাকায় একদল সেটলার বাঙালি কর্তৃক এক মারমা তরুণী (২০) গণধর্ষণের শিকার হয় বলে বিলম্বে পাওয়া খবরে জানা গেছে। ঘটনার পরদিন সকালে লোকজন ঘটনাটি জানতে পারার আগেই ধর্ষকরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে রাঙামাটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তোভোগী ও পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে কাউখালী উপজেলার পোয়াপাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম। সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল রাতে তরুণীটিকে ডেকে নিয়ে আবারও শারীরিক মিলনের প্রস্তাব দিলে এতে তরুণী বাধা দেওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালায় সে। পরদিন ১৬ এপ্রিল ঘটনা জানাজানি হলে কাউখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা।
১৭ এপ্রিল নিজে বাদী হয়ে ফাহিমকে আসামি করে কাউখালী থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী তরুণী। বর্তমানে তাকে পুলিশি নিরাপত্তায় ডিএনএ পরীক্ষাসহ রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর বাড়ি কাউখালীর একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বড় ডলুপাড়ায় এবং সরকারি কলেজে অনার্সে অধ্যায়নরত বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউখালী থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আসামিকে গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ ও নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। তবে এটি তাদের দুজনের মধ্যে প্রেমঘটিত ঘটনার তথ্যও পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর ডিএনএ পরীক্ষাসহ চিকিৎসার জন্য তাকে রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
যদিও এ ঘটনায় শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘে জানিয়েছে, এ ঘটনায় কাউখালী থানায় মামলা হলে এর দুই দিন পার হলেও অপরাধীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি নারীদের নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সেটেলার বাঙালিরা। তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত পাহাড়ি নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

-পার্বত্য সময়