পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করায় সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের কাছে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, পিসিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজুসহ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনে পিসিএনপির পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

- পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ আমলের ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিল করে সংবিধানের আলোকে শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

- সমতলের মতো সংবিধান অনুযায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু, ভূমি বন্দোবস্ত পুনরায় চালু এবং ভূমিহীন বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে ভূমি বন্দোবস্ত প্রদান।

- বাজার ফান্ড এলাকায় ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালু, ভূমি কমিশনে বাঙালি সদস্য নিয়োগ এবং উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রাখা।

- ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাতিল করে সংখ্যানুপাতিক ভিত্তিতে সব জাতিসত্তার সমান অধিকার নিশ্চিত করা।

- জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তিন পার্বত্য জেলায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং প্রতি এক কিলোমিটার পরপর বিজিবির বিওপি স্থাপন।

- প্রত্যাহার করা সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি ডিভিশন স্থাপন।

- পার্বত্য চট্টগ্রামকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

- শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসায় বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পর্যাপ্ত হাসপাতাল নির্মাণ।

অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। তাঁর ভাষ্য, সমস্যাটি রাজনৈতিক হলেও এর সমাধানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে সেখানে সেনাক্যাম্প বাড়ানোর দাবি জানান। পাশাপাশি সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, সরকার গঠিত তিনটি কমিটিকে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

পিসিএনপির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গঠিত তিনটি কমিটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকায় বসে কিছু বামপন্থী গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। সম্প্রতি ৫২ জনের একটি গোষ্ঠী তিন কমিটির বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি প্রণয়নের সময় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার গঠিত জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটির কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসব কমিটিকে সবাই সহযোগিতা করবে।