শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি, সুষম বণ্টন ও বৈষম্যমুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধ ও সংঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে কাজ করতে দেন, টাইম উইল স্পিক।’

শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি ও বৈষম্যমুক্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধ ও সংঘাত নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে কাজ করতে দেন। টাইম উইল স্পিক।’

রোববার (২৩ আগস্ট) দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সাচিং প্রু জেরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্ব দিয়েছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এবং সব খাতকে সম্পৃক্ত করে পার্বত্য অঞ্চলকে শান্তি, সম্প্রীতি, সংহতি, সুষম বণ্টন ও বৈষম্যমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পরিস্থিতি গণমাধ্যমে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের চিন্তা, চেতনা ও লেখনি দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনো বিষয় অত্যন্ত যত্ন ও সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের মানুষের কাছেও এ অঞ্চল সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।

পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও উন্নয়নে সবাইকে অভিন্ন মিশন ও ভিশন নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তার ভাষায়, এককভাবে কারও পক্ষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়; সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

নিজের দীর্ঘ প্রশাসনিক ও স্থানীয় সরকারে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ১৯৮৬ সালে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার পরিষদ ও জেলা পরিষদের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সাত বছর ডেপুটি মিনিস্টার পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে চাকরি দেওয়ার সুযোগ হয়েছে এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার মধ্যে সুষম বণ্টনের বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধ ও সংঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে কাজ করতে দেন, টাইম উইল স্পিক।’

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে সবাইকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। লাল-সবুজের পতাকাকে সামনে রেখে সম্মিলিতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও উন্নয়নে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নতুন দায়িত্বে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে সাচিং প্রু জেরী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সর্বজনীন টিমওয়ার্কের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেয় পন্থা।