বান্দরবানে পাহাড় কাটা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শনিবার (১১ জুলাই) বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগরে পাহাড়ধসে নিহত পাঁচজনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
সাচিংপ্রু জেরী বলেন, ‘পরিবেশ তথা পাহাড় কাটা ও বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আমি খুবই সিরিয়াস। এগুলোতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছি। তবে সমতলের তুলনায় পাহাড়ের প্রকৃতিগত কিছু পার্থক্য রয়েছে।’
এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। নিহত দুই পরিবারের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আজিজনগর ইউনিয়নের মহিলা সদস্য রেহেনা আক্তার পাহাড়ধসে গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এ সময় লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন, লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কায়ছার হামিদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংসদ সাচিংপ্রু জেরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আপাতত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের জন্য আরও সহযোগিতার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন।
মন্ত্রণালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী রয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩।


