ভারতের ভিসা জটিলতা এড়িয়ে খুব সহজেই বিদেশ ভ্রমণের স্বাদ নিতে চাইলে ভুটান হতে পারে বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য। সীমিত বাজেটে, ঝামেলাহীন যাত্রায় এবং ভিসাবিহীন প্রবেশে যেভাবে ভুটান ঘুরে আসা যায়—তা বর্তমানে ভারতের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পাহাড়, মঠ, নদী আর নিস্তব্ধতার অপার সম্মিলন যেন হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই রাজ্যকে করে তুলেছে এক নিঃশব্দ সৌন্দর্যের উপাসনালয়।
ঢাকা থেকে সরাসরি লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত পেরিয়ে চাংলোংখা হয়ে খুব সহজেই প্রবেশ করা যায় ভুটানের সীমান্ত শহর ফুন্টশোলিংয়ে। এখান থেকে প্রবেশের জন্য কোনো ভিসা না লাগলেও স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে এন্ট্রি পারমিট নিতে হয়, যা একেবারেই বিনামূল্যে। পারমিট হাতে পেলেই পর্যটকরা যেতে পারেন থিম্পু, পারো ও পুনাখার মতো ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শহরগুলোতে।
এ ভ্রমণে জনপ্রতি পাঁচ দিনের জন্য আনুমানিক খরচ পড়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার আশেপাশে। হোটেল, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়েই এই সীমিত বাজেটেই উপভোগ করা যায় সম্পূর্ণ ভ্রমণ। যেখানে ভারতের ভিসা ও অনিশ্চয়তা অনেকের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে ভুটান ভ্রমণ হয়ে উঠছে আরও বেশি স্বস্তিদায়ক ও নির্ভরযোগ্য। বিশেষ করে যেসব পর্যটক ভারত ঘুরে বেড়াতে চাইলেও ভিসা না পাওয়ার ভয়ে পিছিয়ে থাকেন, তাদের জন্য ভুটান এখন এক বাস্তব বিকল্প।
ভুটানে রয়েছে মন কাড়ার মতো নানা দর্শনীয় স্থান। থিম্পুর রাজকীয় পরিবেশ, পারোর টাইগার নেস্ট মঠের দুর্দান্ত ট্রেকিং অভিজ্ঞতা কিংবা পুনাখার ঐতিহ্যবাহী জং—সব মিলিয়ে ভুটান যেন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মিশ্রণ।
ভ্রমণ অভিজ্ঞরা বলছেন, এখনই সময় ভুটানকে নতুন করে চিনে নেওয়ার। ভারত নয়, ভুটানেই মিলতে পারে বিদেশ ভ্রমণের স্বাদ—তাও কম খরচে, ঝামেলাহীনভাবে। শুধু ইচ্ছেটুকুই থাকলেই এখন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া যায় ‘ড্রাগনের দেশ’ ভুটানের পথে।

-পার্বত্য সময়