দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনে বলিউডের অনেক তারকার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। ককক্রোচ জনতা পার্টি ও সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে আয়োজিত সিজেপির ‘চলো সংসদ’ মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, এমন আন্দোলনই প্রকাশ করে কে মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং কে নীরব থাকেন।
সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির যন্তর-মন্তরে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে প্রকাশ রাজ উপস্থিত ছিলেন অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে। তিনি মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিছিলেও অংশ নেন। প্রতিবাদস্থলে এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, কেন বলিউডের আরও বেশি তারকা এই আন্দোলনের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়াননি।
জবাবে প্রকাশ রাজ বলেন, ‘যারা কথা বলেন, বিশ্ব দেখছে কে মানুষের পাশে দাঁড়াবে। খুব সহজ বিষয়।’
সহকর্মীদের নীরবতায় তিনি হতাশ কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেতা বলেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির নয়, বরং দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার। তিনি বলেন, ‘এটা খুশি বা দুঃখের প্রশ্ন নয়। এখন মানুষ বুঝতে পারছে কে কেমন। এমন আন্দোলন দেখিয়ে দেয় কার মধ্যে সততা আছে, কে মানুষের জন্য দাঁড়াবে। আমি কে কাউকে বলার? আমি শুধু নিজের সঙ্গে কথা বলতে পারি। অনেকের বড় কণ্ঠ আছে, অনেক বড় অভিনেতা আছেন—আমি চাইতাম তারা এই বিষয়ে সেই কণ্ঠ ব্যবহার করতেন। তারা করেননি, মানুষ বিচার করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনে যখন ইতিহাস লেখা হবে, যারা ভুল করেছে তাদের হয়তো ক্ষমা করা হতে পারে, কিন্তু যারা নীরব ছিল তাদের ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবে না।’
সোমবার প্রকাশ রাজ তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টেও একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তাকে সিজেপির সদস্যদের সঙ্গে মঞ্চে দেখা যায় এবং সমর্থকদের স্লোগান দিতে দেখা যায়। ওই মিছিলে অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও পুনম পাণ্ডেও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া হৃতিক রোশন, বিশাল দাদলানি, সোনাক্ষী সিনহা, বীর দাস, অদিতি রাও হায়দারি, সোনু সুদ, ভূমি পেডনেকর, দিয়া মির্জা এবং চিন্ময়ী শ্রীপাদা-সহ আরও কয়েকজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াংচুকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রকাশ রাজ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। এর আগে যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমার দেশের তরুণদের পাশে আছি।’
গত মাসে বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত সিজেপির একটি কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন প্রকাশ রাজ। সেখানে ওয়াংচুক ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের রাজনীতির চেয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত বিষয়ে এগিয়ে আসার প্রশংসা করেন।


