পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ এবং সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।

রোববার (২১ জুন) রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই দাবিতে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।

পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীকে অপসারণ ও দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রীতে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ। ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনকারীদের আপত্তি কোথায়?

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ নম্বর ধারায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের একজন মন্ত্রী নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান নিয়োগ সেই চুক্তির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তারা আরও অভিযোগ করেন, সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা এবং মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব পুনর্গঠনের দাবি জানান।

বিতর্কের পেছনের বাস্তবতা

চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ ধারার দোহাই দিয়ে বলছেন সমালোচকদের একটি অংশ বলছেন, শান্তি চুক্তির সংশ্লিষ্ট ধারাটি মূলত মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একজন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মন্ত্রী থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে, যা পূর্বে দীপেন দেওয়ানের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে।

তাদের মতে, চুক্তিতে কোথাও প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বা প্রতিমন্ত্রীকে অবশ্যই পার্বত্য জনগোষ্ঠীর হতে হবে- এমন শর্তও উল্লেখ নেই।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার আকার নির্ধারণ ও দপ্তর বণ্টনে পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন। ফলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগকে সংবিধান বা শান্তি চুক্তির পরিপন্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন উপজাতীয় মন্ত্রীকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে রেখে সহযোগী হিসেবে একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে এবং এটি চুক্তি ভঙ্গ নয়।

এছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ৫২ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। সমালোচকদের মতে, অতীতে নীতিনির্ধারণে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগকে কেউ কেউ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এতে বাঙালি ও অবাঙালি উভয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত তদারকির সুযোগ তৈরি হতে পারে।