প্রতিবছরের মতো এবারও ২০ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের (জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার) এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ’ (Until Everyone Is Safe)। ইউএনএইচসিআরের বার্তায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তার অধিকার সবার জন্য—যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বের সব বাস্তুচ্যুত মানুষ সুরক্ষা, মর্যাদা ও পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়, ততক্ষণ বৈশ্বিক সংহতি অব্যাহত থাকবে। ২০২৬ সাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ বছর ১৯৫১ সালের জেনেভা শরণার্থী কনভেনশনের ৭৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ইতিহাস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০০ সালে ২০ জুনকে বিশ্ব শরণার্থী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০০১ সাল থেকে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের (জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার) নেতৃত্বে দিনটি বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ইতিহাস আরও আগের, ১৯৫১ সালে জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশন গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে এর ভিত্তি তৈরি হয়। এটি শরণার্থীদের অধিকার সংজ্ঞায়িত করার প্রথম আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হয়, যা বর্তমানে ১৪৯টি দেশ অনুমোদন করেছে।

পরবর্তীতে ২০০০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে ২০ জুনকে দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং ২০০১ সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে এটি পালিত হয়। সে সময় দিনটি ১৯৫১ সালের কনভেনশনের ৫০তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিল রেখে আয়োজন করা হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালে এই কনভেনশনের ৭৫তম বার্ষিকীতে দিবসটি বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে পালিত হচ্ছে।

২০ জুন তারিখটি নির্বাচন করা হয় আফ্রিকা শরণার্থী দিবসের সঙ্গে মিল রেখে, যা আগে থেকেই একই দিনে পালিত হয়ে আসছিল। এভাবেই ধাপে ধাপে বিশ্ব শরণার্থী দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানবিক দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর কী

ইউএনএইচসিআর (জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার) হলো জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, যা শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সুরক্ষা ও সহায়তায় কাজ করে। সংস্থাটি দুইবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে—১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে।

বৈশ্বিক শরণার্থী সংকট ২০২৬: সর্বশেষ তথ্য

বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা কত?

ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৪১ দশমিক ৬ মিলিয়ন আনুষ্ঠানিক শরণার্থী রয়েছে। বিশ্বে প্রতি ৬৭ জনে ১ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে এবং এর প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু।

বিশ্বজুড়ে সুদান, ইউক্রেন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের সংঘাত শরণার্থী সংকটকে আরও গভীর করেছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাস্তুচ্যুতি সামান্য কমলেও (প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস) সংকট এখনো তীব্র রয়ে গেছে। একই বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ নতুনভাবে বাস্তুচ্যুত হয় এবং প্রায় ১৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ নিজ দেশে ফিরে যায়—যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রত্যাবাসন।

তবে ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, এই আংশিক হ্রাস সত্ত্বেও বৈশ্বিক সংকট এখনো গভীর। সুদান, মিয়ানমার ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এবং মানবিক সংকট এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ও রোহিঙ্গা সংকট

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটকে আরও জটিল করে তোলার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে আরাকান আর্মির দখল ও মিয়ানমারের মিলিটারি জান্তার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থা। রাখাইনে অবস্থিত বাকি রোহিঙ্গারাও নিরাপত্তার অভাব ও জীবন বাঁচাতে নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে। এমন একটা জটিল পরিস্থিতিতে রাখাইনে অবস্থিত জনগোষ্ঠীর জন্য সাহায্য পাঠাতে মানবিক করিডর বা প্যাসেজ বা চ্যানেলের মতো নানাবিধ বিভ্রান্তিমূলক আলাপ-আলোচনাও চলছেই, যা প্রকৃত অর্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে কোনো ভূমিকাই পালন করেনি।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন স্থানে মানবিক করিডরের উদাহরণেও দেখা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সহিংসতার মধ্যে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে উদ্ধার করে শরণার্থী হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্যাতনের শিকার হয়ে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অথচ রোহিঙ্গা সংকটের এত বছর হয়ে যাওয়ার পরও আমরা এ বিষয়ে কোনো বিশদ কর্মপরিকল্পনা ও নীতিমালা দেখা যায়নি।

শরণার্থীবিষয়ক নীতি বা পলিসি প্রণয়ন বাংলাদেশের জন্য একটি জরুরি বিষয়, কেননা সাম্প্রতিক সময়েও ভারত থেকেও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ঠেলে পাঠানো হচ্ছে, যা বাংলাদেশ সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে থাকার কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের যেমন সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি সম্পর্ক ২০১৭ সালে ছিল, তা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। এবং স্থানীয়রা এখন আর রোহিঙ্গাদের ইতিবাচক চোখে দেখছে না। পারস্পরিক সম্পর্কের বাইরেও রোহিঙ্গাদের স্থানীয় মিডিয়াতে ‘ডেমোনাইজড’ বা নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, যা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনেকেই নানাবিধ বেআইনি কাজেও যুক্ত হচ্ছে। এতে করে স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মধ্যকার যে ইতিবাচক সহাবস্থানের প্রত্যাশা ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আছে কত?

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রোহিঙ্গা আশ্রয়দাতা দেশ। দেশটিতে বর্তমানে ১.২ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে, যাদের অধিকাংশই কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে।

রোহিঙ্গা সংকটের শুরু হয় ২০১৭ সালের আগস্টে, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক সহিংসতা ও দমন-পীড়নের পর ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তবে এটি নতুন ঘটনা ছিল না; এর আগেও বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল।

পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, কারণ ২০২৪ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে আশ্রয় নেয়।

২০২৬ সালে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি কেমন?

উদ্বেগজনক কিছু তথ্য:

উদ্বেগজনক কিছু তথ্য বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা এখনো খুবই ক্ষীণ। নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রাও বাড়ছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গা পলায়নের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর, যেখানে প্রায় ৯০০ জন মানুষ আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ বা মৃত্যুবরণ করেছে। একই বছরে ৬,৫০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রার চেষ্টা করেছে, যার মধ্যে গড়ে প্রতি ৭ জনে ১ জন নিখোঁজ বা মৃত্যুর শিকার হয়েছে।

এ পরিস্থিতি ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইতিমধ্যে ২,৮০০-এরও বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছে, যা সংকটের ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় পরিচালিত ২০২৫–২৬ যৌথ সাড়া পরিকল্পনা (Joint Response Plan) এখনো অর্থায়নের ঘাটতিতে রয়েছে, যেখানে মাত্র ৫৩ শতাংশ তহবিল নিশ্চিত হয়েছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের কী সমস্যা?

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বর্তমানে নানা ধরনের মানবিক সংকটে রয়েছে। খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য মানবিক সাহায্য ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

একইসঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকার সুযোগও অত্যন্ত সীমিত, ফলে ক্যাম্পজীবনে স্বনির্ভরতার কোনো বাস্তব সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে নারী ও শিশুরা, যারা নিরাপত্তাহীনতা ও নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার শিকার হচ্ছে।

অন্যদিকে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ভূমিধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠায় তারা অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

শরণার্থী কারা?

আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, শরণার্থী হলো এমন ব্যক্তি যিনি জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মত বা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর কারণে নির্যাতনের আশঙ্কায় নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

এর পাশাপাশি রয়েছে আশ্রয়প্রার্থী (যিনি আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদন করেছেন), অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি (নিজ দেশের ভেতরে স্থানচ্যুত) এবং রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি (যার কোনো রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব নেই)।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসের গুরুত্ব কেন?

বিশ্ব শরণার্থী দিবস শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক বার্তা বহন করে। এই দিনটি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেইসব মানুষের দিকে, যারা যুদ্ধ, সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এটি শরণার্থীদের সাহস, সংগ্রাম এবং তাদের মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি ও সুরক্ষার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

একইসঙ্গে এই দিবস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শরণার্থী সুরক্ষার জন্য রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও প্রয়োজনীয় সম্পদ জোগাড়ে ভূমিকা রাখে। শরণার্থীদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য, উদাসীনতা ও ভুল ধারণার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলাও এই দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।

এছাড়া শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশ ও স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাদের মানবিক ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সর্বোপরি, দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই সমাধান—যেমন নিরাপদ প্রত্যাবাসন, পুনর্বাসন ও সংহতকরণের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ ও সহযোগিতা জোরদার করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসের বিভিন্ন বছরের প্রতিপাদ্য

বিশ্ব শরণার্থী দিবসের প্রতিপাদ্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শরণার্থী সংকট ও মানবিক পরিস্থিতির পরিবর্তনকে তুলে ধরে।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য হলো ‘যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ’ (Until Everyone Is Safe)।

২০২৫ এবং ২০২৪ সালে প্রতিপাদ্য ছিল ‘শরণার্থীদের প্রতি সংহতি’ (Solidarity with Refugees), যা শরণার্থীদের প্রতি বৈশ্বিক সহমর্মিতা ও সমর্থনের বার্তা দেয়।

২০২৩ সালে প্রতিপাদ্য ছিল ‘ঘরের বাইরে আশা’ (Hope Away From Home), যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষের নতুন করে জীবন গড়ার আশাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

২০২২ সালে ব্যবহৃত হয় ‘যে-ই হোক, যাই হোক, যেখানেই হোক’ (Whoever. Whatever. Whenever.), যা সবার জন্য সমান সুরক্ষার বার্তা বহন করে।

২০২১ সালে প্রতিপাদ্য ছিল ‘আমরা একসাথে সুস্থ হই, শিখি এবং এগিয়ে যাই’ (Together We Heal, Learn and Shine), যা মহামারী-পরবর্তী পুনর্গঠন ও সহমর্মিতাকে নির্দেশ করে।

আর ২০২০ সালে প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ’ (Every Action Counts), যা শরণার্থীদের সহায়তায় ব্যক্তিগত ও বৈশ্বিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।

বাংলাদেশে বিশ্ব শরণার্থী দিবস কীভাবে পালিত হয়?

বাংলাদেশে বিশ্ব শরণার্থী দিবস জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর (জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার), সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়।

এ উপলক্ষে ঢাকা ও কক্সবাজারে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে শরণার্থী সংকট, মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিশুদের অংশগ্রহণে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা তাদের প্রতিভা ও মানসিক বিকাশকে তুলে ধরে।

এছাড়া সচেতনতামূলক মিছিল ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে শরণার্থী ইস্যুতে সচেতনতা বাড়ানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ প্রতিবেদন ও বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়, যাতে সংকটের বাস্তব চিত্র জনসমক্ষে আসে।

সবশেষে, কক্সবাজারসহ ক্যাম্পগুলোতে বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যেখানে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস ২০২৬ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শরণার্থী সংকট কোনো একটি দেশের নয়, বরং বৈশ্বিক মানবিক সংকট। বাংলাদেশ নিজেই বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রোহিঙ্গা আশ্রয়দাতা দেশ হিসেবে মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। এই প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ প্রতিদিন যে কঠিন জীবনযাপন করছে, তা শুধু পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একজন শিশু, একজন মা। ‘যতক্ষণ না সবাই নিরাপদ’—এই বার্তাই বৈশ্বিক মানবতার মূল প্রতিশ্রুতি।