যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর হলে তা দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
শনিবার (২৩ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিসোমিয়া) এবং অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট (আকসা) কবে স্বাক্ষর হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নয়, সামরিক বাহিনীসহ একাধিক স্টেকহোল্ডারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি তার যুক্তরাষ্ট্র সফরে সামরিক চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। পাশাপাশি তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্তে নয়, সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মাইগ্রেশন, রোহিঙ্গা সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাসের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দও দিয়েছে। এছাড়া পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়া মার্কিন কর্মকর্তা পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান শামা ওবায়েদ।
তিনি আরও বলেন, মরক্কোর সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার হয়েছে এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতে বিশেষ করে সার ও পাট খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চার ধরনের সামরিক চুক্তি করে থাকে। এর মধ্যে প্রথমটি জিসোমিয়া, যা সামরিক গোপন তথ্য বিনিময় ও সেগুলোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি। দ্বিতীয়টি আকসা, যা মূলত অস্ত্র বিক্রয় ও সামরিক সরঞ্জাম সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি।
এছাড়া যৌথ সামরিক অভিযানে যোগাযোগ ও অস্ত্র ব্যবহারের সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি ‘সিজমোয়া’ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্তকরণসহ স্পর্শকাতর তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত চুক্তি ‘বেকা’ও রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল) সরকারের আমলে।


