বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ কার্যক্রম ঠেকাতে দেশের ২৬ জেলার সীমান্তজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে চার পালায় ২৪ ঘণ্টা টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। খবর প্রথম আলোর।
সীমান্তে সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ করেছে বিজিবি। গত চার দিনে ২১টি ঘটনায় প্রায় ২০০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলেও তা প্রতিহত করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, ৩ জুন থেকে একাধিক সীমান্ত এলাকায় মোট ১৮৬ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে। এর মধ্যে মেহেরপুর, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর সীমান্তে পৃথক ঘটনাও রয়েছে। সীমান্তে স্থানীয়দের সহায়তায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ২৬ জেলার সীমান্ত এলাকাগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ টহল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে আগামী ৮–১১ জুন নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পুশ-ইন, সীমান্ত হত্যা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়গুলো আলোচনায় আসবে।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইন বন্ধের বিষয়টি তারা বৈঠকে জোরালোভাবে তুলবে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
এর আগেও এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবৈধ পুশ-ইন বা পুশ-ব্যাক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।


