ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর সীমান্তে ভারতীয় অংশে মো. শাকিল (১৪) নামে এক বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। কীভাবে সে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় অংশের লংঙ্কামোড়া এলাকায় মরদেহটি দেখতে পান সীমান্তে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। পরে বিজিবির সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন।

শাকিল আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মানসিকভাবে অসুস্থ শাকিল গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে নিখোঁজ ছিল।

বিজিবি জানায়, মরদেহটি ভারতের অভ্যন্তরে থাকায় তা উদ্ধারের বিষয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর মরদেহটি বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে শাকিল মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। সীমান্তের ২০২২/৯ পিলারের কাছে কাঁটাতারের এলাকায় কীভাবে সে পৌঁছাল এবং কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় পুলিশ ময়নাতদন্তের পর মরদেহ বাংলাদেশের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবে। মরদেহ দেশে আসার পর আখাউড়া পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করবে। এর মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকের পর মরদেহ বুঝে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাকিলের সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানোর কারণ ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।