সারা দেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আজ বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাছে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পাস করে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিল। তাদের মধ্যে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। ফলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। এক বছরের ব্যবধানে এ হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। ফলে ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন, অর্থাৎ ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম প্রথম বর্ষে নিবন্ধিত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন ফরম পূরণ করেছেন। বাকি ৬১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর ৪৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ হার প্রায় ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। ভোকেশনাল শাখায় নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৭৫ হাজার ১৯৭ জন পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। অপরদিকে ৯০ হাজার ৩৪৫ জন, অর্থাৎ ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। গত বছর এ হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।

শিক্ষা বিভাগ এখনো এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করতে পারেনি। তবে পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে বাল্যবিবাহ, দারিদ্র্য, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং এসএসসি পাসের পর কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় নির্ধারিত বছরে পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তারা পরবর্তী বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এটিও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। সারা দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ২১ কার্যদিবসে লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে। যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।

এর আগে, পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাধারণ বিষয়গুলোতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালু করা হবে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।